২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকলে শরীরে কী ঘটে জানেন? চমকে যাবেন এই ভয়ানক সত্যিটা জানলে!

আমাদের ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনে উপবাস, ডায়েটিং বা নানা কারণে ২৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় না খেয়ে থাকার প্রবণতা আজকাল বেশ দেখা যায়। অনেকে ধর্মীয় কারণে বা ওজন কমাতে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকেন, আবার অনেকেই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের (Intermittent Fasting) নিয়ম মেনে এই পথ বেছে নেন। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে, টানা ২৪ ঘণ্টা খাবার না খেলে আমাদের শরীরের ভেতরে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে? চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টি বিজ্ঞান অনুযায়ী, মানুষের শরীর অত্যন্ত জটিল এবং এটি দীর্ঘক্ষণ খাবার না পাওয়ার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার জন্য চমৎকারভাবে প্রস্তুত থাকে। ২৪ ঘণ্টার একটি উপবাস আমাদের বিপাক ক্রিয়া (Metabolism), মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং কোষের পুনর্গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে।

বিজ্ঞান বলছে, খাবার খাওয়া বন্ধ করার প্রথম ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে শরীর তার শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করা ব্যবহার করা শেষ করে ফেলে। এই সময়ে যকৃৎ বা লিভারে জমা থাকা গ্লাইকোজেন ভেঙে শরীরে শক্তি জোগায়। এরপর প্রায় ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টার মাথায় শরীর ‘কেটোসিস’ (Ketosis) নামক একটি বিশেষ অবস্থায় প্রবেশ করতে শুরু করে। এই পর্যায়ে শরীরের নিজস্ব ফ্যাট বা চর্বি ভাঙতে শুরু করে এবং লিভার ফ্যাটি অ্যাসিডকে কিটোন বডিতে রূপান্তরিত করে যা মস্তিষ্ক এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। এই প্রক্রিয়াটি ওজন কমাতে এবং শরীরের মেদ ঝরাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ পরিবর্তনটি ঘটে ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাটোফ্যাগি’ (Autophagy) বলা হয়। জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহসুমি এই বিষয়ে গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। অ্যাটোফ্যাগি হলো শরীরের এক ধরনের প্রাকৃতিক পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া বা সেলফ-ক্লিনিং মেকানিজম। যখন ২৪ ঘণ্টা কোনো খাবার খাওয়া হয় না, তখন শরীর তার ভেতরে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত, মৃত বা ত্রুটিপূর্ণ কোষগুলিকে ভেঙে ফেলে পুনর্ব্যবহার করতে শুরু করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, বার্ধক্যের ছাপ রোধ করতে সাহায্য করে এবং ক্যানসার বা ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

তবে চিকিৎসকদের মতে, ২৪ ঘণ্টার উপবাস সবার শরীরের জন্য একভাবে কাজ করে না। যাঁদের ডায়াবেটিস, রক্তচাপের সমস্যা, গর্ভাবস্থা বা অন্য কোনো জটিল শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে, তাঁদের জন্য দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এটি শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি তৈরি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ করে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ঝুঁকি নেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। শরীরের নিজস্ব প্রাকৃতিক ক্ষমতার ওপর ভরসা রেখে এবং সঠিক নিয়ম মেনে চললে এই ধরনের উপবাস উপকারি হতে পারে, তবে তা যেন শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ না সৃষ্টি করে সেদিকে অবশ্যই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।