প্রতি কেজি ৫০০ টাকা! সনাতনী চাষ ছেড়ে ড্রাগন ফ্রুট চাষে কোটিপতি হওয়ার নতুন স্বপ্ন দেখছেন উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা

উত্তরাখণ্ডের লখিমপুর খেরি জেলার কৃষকরা এখন প্রথাগত বা গতানুগতিক চাষাবাদের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে অত্যন্ত লাভজনক নগদ ফসলের (Cash Crops) দিকে দ্রুত ঝুঁকছেন। এই পরিবর্তনের ধারায় অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে পুষ্টিগুণে ভরপুর ‘ড্রাগন ফ্রুট’ বা ‘কামালম’ চাষ। খেরি জেলার মহম্মদী তহসিল অঞ্চলের প্রগতিশীল কৃষক নথুলাল শুক্লা তাঁর নিজস্ব জমিতে এই বিদেশি ফলের সফল চাষ করে কৃষিমহলে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন এবং এর মাধ্যমে নিজের আর্থিক সমৃদ্ধির নতুন রাস্তা প্রশস্ত করেছেন।
নথুলাল শুক্লা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ড্রাগন ফ্রুট বর্তমান বাজারে অত্যন্ত চাহিদা সম্পন্ন এবং অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল। এই ফলের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খাদ্যযোগ্য ফাইবার এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মানব শরীরের সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে চিকিৎসকমহল ও পুষ্টিবিদরা মনে করেন। এই বিশেষ গুণাবলীর কারণেই বাজারে এই ফলের চাহিদা আকাশছোঁয়া এবং কৃষকরাও এর বিনিময়ে অত্যন্ত লাভজনক মূল্য ঘরে তুলতে পারছেন।
এই চাষের সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো, ড্রাগন ফলের চারা একবার জমিতে রোপণ করলে তা থেকে টানা প্রায় ২৫ বছর ধরে নিয়মিত ফলন পাওয়া সম্ভব হয়। এর ফলে চাষিদের প্রতি বছর নতুন করে বীজ বা চারা তৈরি করার বা অতিরিক্ত খরচ করার কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে সামান্য কিছু অর্থ বিনিয়োগ করার পর দীর্ঘ দীর্ঘ বছর ধরে একটি স্থিতিশীল ও নিয়মিত আয় বজায় রাখা যায়।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এদেশের কৃষকরা যদি আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি এবং সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ড্রাগন ফলের চাষ করেন, তবে স্বল্প খরচে এবং কম পরিশ্রমে বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। সঠিক সময়ে সেচ দেওয়া, মাটির পুষ্টিগুণ বজায় রাখা এবং নিয়মিত গাছের দেখভাল করার ফলে এর উৎপাদন মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বাজারের বর্তমান হাল হকিকত অনুযায়ী, এই মুহূর্তে খুচরা বাজারে ড্রাগন ফ্রুট প্রতি কেজি ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এই গাছে অন্যান্য ফসলের মতো পোকা-মাকড় বা ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের উপদ্রবও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম হয়।
ড্রাগন ফলের এই লাগাতার বর্ধিত চাহিদা এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন ক্ষমতা এটিকে কৃষকদের জন্য একটি অত্যন্ত লাভজনক বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আর সেই কারণেই লখিমপুর খেরি জেলার বহু চাষি এখন প্রচলিত ধান-গম চাষ ছেড়ে এই উদ্যান কৃষির প্রতি দারুণভাবে আকৃষ্ট হচ্ছেন। এই লাভজনক চাষে কৃষকদের আরও বেশি করে উদ্বুদ্ধ করতে রাজ্য সরকারের উদ্যানপালন বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত সচেতনতা শিবির ও বিশেষ প্রচার চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ড্রাগন ফ্রুট চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের আকর্ষণীয় আর্থিক অনুদান বা ভর্তুকিও প্রদান করা হচ্ছে, যাতে খাদের ধারের প্রান্তিক কৃষকরাও কোনো আর্থিক জটিলতা ছাড়াই সহজে এই লাভজনক চাষ শুরু করতে পারেন।