একই রঙের রেনকোট-হেলমেট পরে ঘোরাঘুরি! চার কেজি সোনাসহ দুই যুবককে জালে তুলল পুলিশ!

লেকটাউনের বুকে এক চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক ঘটনায় একই রকম দেখতে রেনকোট এবং হেলমেট পরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করার সময় দুই যুবককে হাতেনাতে পাকড়াও করল পুলিশ। ধৃতদের তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা, যা দেখে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে মোট চারটি ভারী সোনার বিস্কুট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যার প্রতিটির ওজন এক কিলোগ্রাম করে, অর্থাৎ উদ্ধার হওয়া সোনা ও ওজনের দিক থেকে মোট চার কেজি। এই বিশাল পরিমাণ অবৈধ সোনা উদ্ধারের পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে বিস্তারিত প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, প্রতিদিনের নিয়মিত টহলদারি ও নজরদারির অঙ্গ হিসেবে লেকটাউন থানার একটি পুলিশ ভ্যান বি ব্লকের লেকের সামনে চত্বরে টহল দিচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের নজরে আসে দুই যুবক, যারা অত্যন্ত অদ্ভুতভাবে একই রকম দেখতে রেনকোট এবং হেলমেট পরে অত্যন্ত সন্দেহজনক ভঙ্গিতে ওই এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করছে। তাদের এই অস্বাভাবিক আচরণ দেখেই পুলিশের সন্দেহ দানা বাঁধে। এর পরেই কালবিলম্ব না করে পুলিশকর্মীরা ওই দুই যুবককে আটকে নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃতদের কথাবার্তায় মারাত্মক অসঙ্গতি মেলায় পুলিশের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। এর পরেই পুলিশ তাদের কঠোরভাবে তল্লাশি চালায়। তল্লাশি চালাতে গিয়েই ওডিশার বাসিন্দা ভগীরথ জানা নামক ওই যুবকের ব্যাগ বা পোশাকের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় ওই মহার্ঘ সোনার বিস্কুটগুলি। এত বিপুল পরিমাণ সোনা তারা ঠিক কোথা থেকে সংগ্রহ করল এবং তা কোথায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি ধৃতরা। ঘটনার নেপথ্যে কোনো আন্তর্জাতিক সোনা পাচারচক্র বা বড় কোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে লেকটাউন থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করে এই চক্রের বাকি মাথাদের ধরার চেষ্টা চলছে।