অ্যামাজন-ফ্লিপকার্টের জন্য বড় নিয়ম বদল! এফডিআই নীতি নিয়ে কেন্দ্রের মাস্টারস্ট্রোক

ই-কমার্স খাত এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) নীতিতে এক বিরাট পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নীতি অনুযায়ী, এবার থেকে শুধুমাত্র ‘রপ্তানির উদ্দেশ্যে’ ইনভেন্টরি-ভিত্তিক (Inventory-based) ই-কমার্স মডেলে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অ্যামাজন বা ফ্লিপকার্টের মতো বিদেশি বিনিয়োগযুক্ত ই-কমার্স কোম্পানিগুলি ভারতে স্টক বা পণ্য মজুত করে সরাসরি বিদেশে বিক্রি করতে পারবে, তবে এই মডেলের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্রাহকদের কাছে কোনো পণ্য বিক্রি করার অনুমতি তারা পাবে না। সরকারের এই পদক্ষেপে ভারতীয় পণ্যের বিশ্বব্যাপী প্রসার ও রপ্তানি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইনভেন্টরি-ভিত্তিক ই-কমার্স মডেল কী?

ই-কমার্স ব্যবসায় মূলত দু’টি মডেল প্রচলিত রয়েছে: ১. মার্কেটপ্লেস মডেল: যেখানে ই-কমার্স কোম্পানিগুলি কেবল ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ২. ইনভেন্টরি-ভিত্তিক মডেল: যেখানে কোম্পানি নিজে সরাসরি পণ্য ক্রয় করে, নিজেদের গুদামে তা সংরক্ষণ বা মজুত করে এবং সরাসরি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে।

এতদিন ভারতে বিদেশি বিনিয়োগকারী ই-কমার্স সংস্থাগুলিকে ইনভেন্টরি মডেলে অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া হতো না। সরকার সেই নিয়ম বহাল রাখলেও, শুধুমাত্র ‘রপ্তানি কার্যক্রমের’ খাতিরে নীতিতে বড় ছাড় দিল।

রপ্তানি বৃদ্ধি ও দেশীয় বাজারের সুরক্ষা

ভারতের লক্ষ্য হলো দেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে বিদেশি বিনিয়োগযুক্ত ই-কমার্স সংস্থাগুলি ভারতে পণ্য মজুত করে তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠাতে পারবে। এর ফলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), ছোট ব্যবসা এবং স্থানীয় উৎপাদনকারীরা আন্তর্জাতিক বাজারে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে, যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘লোকাল ফর গ্লোবাল’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি লজিস্টিকস, ওয়্যারহাউজিং এবং সাপ্লাই চেইন খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ছাড় কেবলমাত্র রপ্তানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দেশীয় খুচরা বিক্রেতা ও ঐতিহ্যবাহী দোকানদারদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে দেশীয় বাজারের জন্য পূর্বের এফডিআই বিধিমালা সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতেই এই সুষম সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।