বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ছাড়ের আর্জি! সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য সরকার

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বহুচর্চিত ও দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মামলার জট কাটাতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে এক বড় প্রস্তাব দিল রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট মনিটরিং কমিটির কাছে রাজ্য সরকারের জমা দেওয়া সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ-র পুরো ১০০ শতাংশ নয়, বরং তার থেকে ১৫ শতাংশ ছাড়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে রাজ্যের তরফে। অর্থাৎ, বকেয়ার ৮৫ শতাংশ মেটাতে আগ্রহী রাজ্য।

সুপ্রিম কোর্টে কী জানিয়েছে রাজ্য?

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এই ডিএ মামলার শুনানি নির্ধারিত ছিল। তার ঠিক আগেই রাজ্যের তরফে মনিটরিং কমিটির কাছে একটি বিশদ স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। সেই রিপোর্টে বেশ কিছু নতুন প্রস্তাব ও সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে:

  • ১৫ শতাংশ ছাড়ের আর্জি: মোট বকেয়া ডিএ-র ১০০ শতাংশের পরিবর্তে ৮৫ শতাংশ মেটানোর কথা বলা হয়েছে এবং বাকি ১৫ শতাংশ প্রদান থেকে যাতে রাজ্যকে ছাড় দেওয়া হয়, সেই অনুরোধ রাখা হয়েছে।

  • সময়সীমা ও কিস্তি: ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা জমে রয়েছে, তা পুরোপুরি মেটানোর জন্য রাজ্যের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত দু’বছর সময় চাওয়া হয়েছে।

  • পেমেন্ট পদ্ধতি: এই বকেয়া টাকা একসঙ্গে নয়, বরং মোট চারটি পৃথক কিস্তিতে পরিশোধ করতে চায় রাজ্য সরকার।

কেন বসল না বিশেষ বেঞ্চ?

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বিশেষ বেঞ্চে বেলা ২টো নাগাদ এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে অনিবার্য কিছু কারণে এদিন সংশ্লিষ্ট বিশেষ বেঞ্চ বসেনি, ফলে মামলার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ এবং আইনি লড়াইয়ের এই আবহে রাজ্যের এই নতুন প্রস্তাব ঘিরে রাজ্যজুড়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম পুরো বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। এখন সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানিতে এই ১৫ শতাংশ ছাড়ের আর্জি ও সময় বাড়ানোর আবেদন নিয়ে শীর্ষ আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।