নিট কাণ্ডে উত্তাল সংসদ! শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় বিরোধীদের হট্টগোলে মুলতুবি রাজ্যসভা!

NEET-UG পরীক্ষা কেলেঙ্কারি ও প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে চলা তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার আঁচ এসে সরাসরি আছড়ে পড়ল সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়। বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভ ও তুমুল স্লোগাজ্জ্বল পরিস্থিতিতে গোটা সংসদ ভবন চত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী সাংসদদের লাগাতার হট্টগোলের জেরে বাধ্য হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে হয়। বর্তমান সময়ের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যুতে একদিকে শাসকপক্ষ এনডিএ এবং অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি নিজেদের নিজ নিজ অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড় থাকায় সভায় তীব্র বাদানুবাদ ও রাজনৈতিক সর্ষের দানা বাঁধতে দেখা যায়।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান যে, সরকার নীতিগতভাবে NEET ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু বিরোধী দলগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে নানা পূর্বশর্ত চাপিয়ে দিয়ে সংসদীয় প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে চাইছে। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে জানান, সমস্ত রাজনৈতিক দলই এই বিষয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছিল এবং এনডিএ-র শরিক দলগুলিও চেয়েছিল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হোক। কিন্তু কংগ্রেস দল বারবার একটি নির্দিষ্ট শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল যে আলোচনা কীভাবে এবং কতক্ষণ ধরে পরিচালিত হবে, তা আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করা হোক, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই যেন কোনো একতরফা শর্ত চাপানো না হয়। মন্ত্রীর মতে, এই ধরনের শর্ত চাপানোর আসল উদ্দেশ্যই হল আলোচনা বন্ধ রাখা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও আজ একটি অত্যন্ত দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশবাসীকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে বিচারবিভাগীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট স্থাপন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে দেশে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটলে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া নিশ্চিত করা যায়।
এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে সরাসরি “উস্কানিমূলক” বলে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে সরকার প্রশ্নফাঁসের মতো এত বড় ঘটনার সম্পূর্ণ নৈতিক দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। খাড়গের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে, তবেই বিরোধী পক্ষ সরকারি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে রাজি হবে। অন্যদিকে, এদিন সকালেই সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে বিরোধীরা তীব্র বিক্ষোভ দেখান এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বরখাস্তের জোরালো দাবি তোলেন। এই বিক্ষোভে খোদ কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। একইসঙ্গে শাসকদল এনডিএ-র সাংসদরাও অপর একটি ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এই সার্বিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথমবার এই দেশজোড়া ছাত্র আন্দোলন ও প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুলেছেন। দেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও ভবিষ্যতের সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রত্যেকটি অভিযুক্তকে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে দেশজুড়ে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হবে।