সুপ্রিম কোর্টের বাইরে নজিরবিহীন অচলাবস্থা! ছাত্র আন্দোলনের জেরে বন্ধ মেট্রো স্টেশন, ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি!

রাজধানী দিল্লির বুকে চলমান তীব্র ছাত্র আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট নজিরবিহীন পরিস্থিতি এবার সরাসরি এসে ধাক্কা মারল দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ে। আন্দোলন ও নিরাপত্তার কড়াকড়ির জেরে সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন মেট্রো স্টেশন-সহ দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এর ফলে চরম ভোগান্তি এবং তীব্র হয়রানির মুখে পড়েছেন প্রতিদিন আদালতে যাতায়াতকারী হাজার হাজার আইনজীবী, মামলার বাদী-বিবাদী এবং আদালতের বহুমুখী কর্মীরা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (SCBA) এই গুরুতর বিষয়টি সরাসরি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে উত্থাপন করেছে। যার প্রেক্ষিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অত্যন্ত কড়া সুরে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দুপুরের মধ্যে যদি এই জটিল যাতায়াত সমস্যার সমাধান না হয়, তবে তিনি নিজেই সরাসরি এই বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করবেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিকাশ সিং এদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, আকস্মিক মেট্রো পরিষেবা বন্ধ থাকায় ও সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের আশেপাশের পথ অবরুদ্ধ থাকায় আইনজীবীদের পক্ষে নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করে জানান, সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনগুলির নির্দিষ্ট এক্সিট পয়েন্টে বা বহির্গমন দ্বারে কঠোর পুলিশি চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হোক। কেবল শীর্ষ আদালতের বৈধ ও অফিশিয়াল প্রক্সিমিটি কার্ড বা অনুমোদিত পরিচয়পত্র থাকা আইনজীবী ও স্টাফদেরই সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হোক এবং বাকি সাধারণ যাত্রীদের অন্য রুটে বা অন্য স্টেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হোক।
এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তাৎক্ষণিকভাবে জানান যে, সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক বিভাগ ইতিমধ্যেই দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) এবং নগরীর সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসেছে। প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আজ সকালেই বিষয়টি আমার নজরে আনা হয়েছে। যদি দুপুরের মধ্যে এই যাতায়াত সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান না হয়, তবে আমি নিজে এই বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নেব।” শুধু তাই নয়, সার্বিক এই আকস্মিক পরিবহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যদি কোনো আইনজীবী বা মামলাকারী সময়মতো আদালতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন, তবে তাঁদের সেই অনভিপ্রেত অনুপস্থিতির জন্য কোনো অবস্থাতেই যাতে কোনো ধরনের কঠোর শাস্তিমূলক নির্দেশ জারি করা না হয়, সেই বিষয়েও অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
উল্লেখ্য, রাজধানী দিল্লিতে ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’-র ব্যানারে চলা এই বিক্ষোভের জেরে এবং ব্যাপক নিরাপত্তার স্বার্থে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই সুপ্রিম কোর্ট মেট্রো স্টেশন ছাড়াও রাজীব চক, মান্ডি হাউস, আইটিও, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট-সহ প্রায় ১৬টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। যদিও যাত্রীদের সাময়িক স্বস্তি দিতে রাজীব চক ও মান্ডি হাউসের মতো বড় প্রধান ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনগুলিতে ট্রেন পাল্টানোর সুবিধা বা ইন্টারচেঞ্জ করার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।