সাসপেন্ড হয়েও দমে নেই কল্যাণ! লোকসভার বাইরে একা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে বিক্ষোভ, সতীর্থদের ‘গদ্দার’ দাগলেন টিএমসি সাংসদ!

লোকসভা থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও দমে যাননি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট তথা বিতর্কিত সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বুধবার শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সমগ্র অধিবেশনকালের জন্য লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকেই তিনি রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় ঝড় তুলেছিলেন। স্পষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সমস্ত নিষেধাজ্ঞা ও সাসপেনশনকে উপেক্ষা করে ফের সংসদ চত্বরে হাজির হন। কাউকে সঙ্গে না নিয়ে একেবারে একা একা গলায় তীব্র প্রতিবাদের স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে নজিরবিহীন বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রীরামপুরের এই প্রবীণ সাংসদ।

তাঁর প্রতিবাদী অবস্থানের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এনসিপিআই (NCPI) বা দলত্যাগী সেই সমস্ত সাংসদদের বৈধতা, যাঁদের তীব্র আক্রমণ করে তিনি আবারও ‘গদ্দার’ ও ‘বেইমান’ বলে তোপ দাগেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার মিতালী বাগকে ঘিরে মন্তব্যের জেরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর পরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো দলের মহিলা সংসদ সদস্যরা কল্যাণের বিরুদ্ধে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুললেও কল্যাণ নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভের সময় তিনি খোলাখুলি দাবি করেন যে, দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা কুড়িজন সাংসদ পর্দার আড়ালে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং তাঁদের এই বেঈমানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে কল্যাণের এই একক বিক্ষোভ চলাকালীন সংসদ চত্বরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মকর দ্বারের সামনে যখন তিনি প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন, তখন ওড়িশার বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা সংসদ সদস্য রুদ্রনারায়ণ পাণি সহ একাধিক গেরুয়া শিবির সাংসদ সরাসরি তাঁর প্রতিবাদের তীব্র বিরোধিতা করেন। বিজেপি সাংসদরা কল্যাণকে কটাক্ষ করে বলেন যে, তিনি আজ সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছেন এবং তাঁর পাশে দলীয় কোনো নেতা বা কর্মী নেই। দলের বাকি সবাই একে একে তৃণমূল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বলেই আজ তাঁর এই করুণ দশা হয়েছে। তবে বিজেপি সাংসদদের কোনো কথারই সরাসরি জবাব না দিয়ে কল্যাণ নিজের স্লোগান ও প্রতিবাদ বজায় রাখেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল মোড় নেয় যখন কল্যাণের এই অবস্থানে সমর্থন জানাতে শিবসেনার কিছু সংসদ সদস্যও মকর দ্বারের সামনে এসে উপস্থিত হন। শিবসেনা সাংসদরা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিক্ষোভ প্রদর্শনে একাত্মতা প্রকাশ করার পাশাপাশি তাঁকে অনুরোধ করেন যে, তিনি যেন কেবল ওই কুড়িজন সাংসদ নন, বরং দল ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া অন্যান্য শিবসেনা নেতাদের বিরুদ্ধেও একইভাবে সোচ্চার হন। সবমিলিয়ে, সাসপেনশনের পরেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাঁড়াশি আক্রমণ ও একাকী বিক্ষোভ কর্মসূচি জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।