যন্তর মন্তর থেকে বিদেশেও প্রতিবাদের ঝড়! শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী দিল্লি সহ গোটা দেশ। যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র-যুব সমাজের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এবং দেশব্যাপী প্রতিবাদের জেরে সৃষ্ট চাপ সামলাতে অবশেষে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র সরকার। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের সরকারি এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক নিট কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত ও কঠোরতম শাস্তির আওতায় আনতে বিশেষ ‘ফাস্ট ট্র্যাক আদালত’ গঠন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই এক বিশাল রূপ ধারণ করেছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর জালিয়াতির জেরে বহু মেধাবী পরীক্ষার্থীর স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে এবং একাধিক তরুণের চরম পদক্ষেপ নেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান এবং অনড় দাবি হলো, এই সার্বিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ কেবল দিল্লির গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পাঞ্জাব থেকে আগত কৃষক সমাজ, চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, প্রাক্তন সেনা আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। এমনকি অভিনব উপায়ে ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমেও এই প্রতিবাদের সঙ্গে সংহতি জানানো হচ্ছে।

এদিকে, আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও নিজের অনশন ও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। দিল্লির মেট্রো স্টেশনগুলির গেট বন্ধ করে বা কড়াকড়ি করেও আন্দোলন দমানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের আশ্বাসের পরেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করে চলেছেন। সবমিলিয়ে, নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং তার জেরে সৃষ্ট গণ-আন্দোলন এখন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।