ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাই! সংসদের ভেতরে-বাইরে আগুন জ্বালিয়ে দিল বিরোধীরা, আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশজুড়ে যখন চরম অসন্তোষ ও উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বিরোধী দলগুলি। দিল্লিতে যন্তর মন্তরে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ সপ্তগিরি উলাকা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন যে, বিগত দিনে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর পরীক্ষা কেলেঙ্কারি এবং রাম মন্দির চ্যারিটেবল ট্রাস্টের তহবিলে বড় ধরনের গরমিলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে সংসদের অন্দরে ও বাইরে তীব্র আলোচনা করার জন্য বিরোধীরা সম্পূর্ণভাবে বদ্ধপরিকর।

মঙ্গলবার ప్రముఖ সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সুনির্দিষ্ট সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস সাংসদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে, আসন্ন বাদল অধিবেশন চলাকালীন তাঁরা সংসদের ভেতরে এবং বাইরে একাধিক জ্বলন্ত বিষয় অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের সবচেয়ে প্রধান এবং প্রথম দাবি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নিঃশর্ত পদত্যাগ। কংগ্রেস নেতা বলেন, “আমরা দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় ঘটে চলা প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা চাই, পাশাপাশি রাম মন্দির তহবিলের অর্থ তছরুপের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়েও আমরা সংসদে চুলচেরা বিশ্লেষণে আগ্রহী। এছাড়া আরও বেশ কিছু জনস্বার্থের বিষয় রয়েছে যা নিয়ে আমরা সরব হতে চাই। তবে আমাদের একেবারে মূল ও অটল দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ।”

কংগ্রেস সাংসদ অত্যন্ত জোর দিয়ে এও বলেন যে, দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করার জন্য যতদিন না সরকার তরফ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ও শক্তপোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত সংসদের অন্দরে বিরোধী দলের রাজনৈতিক চাপ পুরোপুরি বজায় রাখা হবে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর এই বিশাল প্রতিবাদের পরেও কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের ইতিবাচক আশ্বাস বা সুরাহা মেলেনি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গতকাল হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যন্তর মন্তর থেকে মিছিল করে সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে আসছিল। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা জেপি নাড্ডার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পরেও সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে কোনো ধরনের আশ্বস্ত করার মতো বার্তা মেলেনি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে সংসদের অন্দরে ও বাইরে আমাদের এই কঠোর লড়াই আগামী দিনেও অবিরাম চালিয়ে যাব।”

শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জন্য তাঁদের এই চলমান রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যগুলিও তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেন। সপ্তগিরি উলাকা আরও যোগ করে বলেন, “আমরা আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষানীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন চাই এবং দেশের সরকার যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বেদনাদায়ক প্রশ্নপত্র ফাঁস কঠোরহাতে রুখতে পারে, সেই মর্মে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা ও আশ্বাস চাই।” উল্লেখ্য, সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে সংসদের বহুচর্চিত বাদল অধিবেশন, যা আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত একটানা চলার কথা রয়েছে। অধিবেশনের সূচনার দিনেই বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ ভবন। NEET-UG 2026 পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অযোধ্যায় শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের অনুদানে দুর্নীতির মতো চাঞ্চল্যকর বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার জোরালো দাবিতে কংগ্রেসসহ সমস্ত সমমনোভাবাপন্ন বিরোধী দলগুলি সম্মিলিতভাবে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। যার জেরে সংসদের দুই কক্ষের কার্যক্রমই প্রথম দিন দিনের মতো মূলতবি করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, বিরোধীদের এই প্রবল হট্টগোল ও স্লোগান দেওয়ার মধ্যেই লোকসভার অন্দরে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতি সংখ্যা) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালের মূল সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতি সংখ্যা) আইন সংশোধন করার উদ্দেশ্যে এই নতুন বিলটি পেশ করার অনুমতি চান। এই প্রস্তাবিত বিলের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির অনুমোদিত সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৩৭ জনে উন্নীত করার এক সুদূরপ্রসারী প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে কেন্দ্রের জারি করা পূর্ববর্তী অধ্যাদেশটিকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করবে।

শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতি সংখ্যা) সংশোধনী বিল, ২০২৬ ছাড়াও নরেন্দ্র মোদী সরকার রাজ্যসভার অন্দরে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘জাতীয় প্রতীকের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ পেশ করার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এই প্রস্তাবিত নতুন আইনটি পাশ হলে ১৯৭১ সালের মূল জাতীয় প্রতীকের অবমাননা প্রতিরোধ আইনটি যথাযথভাবে সংশোধিত হবে। এর মাধ্যমে দেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর পরিবেশনে বা এর প্রতি যেকোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা কিংবা অসম্মান প্রদর্শন করাকে সরাসরি একটি কঠোর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। সবমিলিয়ে, একদিকে দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং অন্যদিকে সংসদের ভেতরে বিরোধী দলগুলির তীব্র চাপ ও নতুন বিল পাসের জেরে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক পারদ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।