নাবালিকাকে লাগাতার নিগ্রহ ও প্রাণনাশের হুমকি! ওদলাবাড়িতে গ্রেপ্তার তৃণমূলের প্রভাবশালী পঞ্চায়েত সদস্য!

মালবাজার থানা এলাকায় এক নাবালিকাকে শারীরিক নিগ্রহ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওদলাবাড়ি এলাকা। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের এক তৃণমূল কংগ্রেস সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা নাবালিকার বাবা বেশ কয়েক বছর ধরেই কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন। তাঁদের আসল বাড়ি মেটিলি থানা এলাকায় হলেও, তিন বছর আগে নাবালিকার মা সন্তানদের নিয়ে ওদলাবাড়ি এলাকায় বাপের বাড়িতে চলে আসেন। অভিযোগ, সেখানে আসার পর থেকেই ওই পরিবারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য।
নির্যাতন ও হুমকি: গত বছর অক্টোবর মাসে পুজোর সময় থেকে মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওই নাবালিকার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে অভিযুক্ত। পাশাপাশি, ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়, যার জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল ওই কিশোরী।
মায়ের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ: নির্যাতিতা প্রথমে তার মাকে সমস্ত ঘটনা জানালেও, মা সেই বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে নির্যাতিতার মায়ের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কও ছিল।
বাবার হস্তক্ষেপে পুলিশের জালে অভিযুক্ত
সম্প্রতি তিন মাস আগে ভিনরাজ্য থেকে বাড়িতে ফেরেন নির্যাতিতার বাবা। কিন্তু তখনও ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি সে। অবশেষে কিছুদিন আগে সমস্ত সাহস জুগিয়ে সে তার বাবাকে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। মেয়ের মুখে এই পৈশাচিক অত্যাচারের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে মালবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বাবা।
অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো (POCSO) আইনের ৮/১২ ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে ওদলাবাড়ি থেকেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ধৃতকে আদালতে তোলা হবে।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মালবাজার প্রখণ্ডের সভাপতি দীপ তিওয়ারি প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মালবাজার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুদীপ্ত সরকার জানিয়েছেন যে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।