দিল্লিতে ধুন্ধুমার কাণ্ড! লাঠিপেটায় রক্তাক্ত আন্দোলনকারীদের দেখতে সোজা হাসপাতালে জেপি নাড্ডা ও রাহুল-প্রিয়াঙ্কা!

দিল্লির রাজপথে আন্দোলন ও জনসমর্থন তুঙ্গে ওঠার পাশাপাশি পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। সিজেপি বা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নিয়ে যখন রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। কিন্তু তাতেও বরফ না গলায় মোদি সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হয়েছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে সরাসরি উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। সোমবারের প্রতিবাদী আন্দোলনে পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অন্যদিকে, হাসপাতালে আহতদের দেখতে পৌঁছন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভঢ়রাও। এর আগে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নৃশংস লাঠিচার্জের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। সোমবারের এই দমনপীড়নকে তিনি “ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী” বলে অভিহিত করেছেন এবং এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ নীরবতা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী কড়া সুরে বলেন, “সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে, এমন অমানবিক ঘটনা সম্পূর্ণ অ-ভারতীয়। অথচ গতকাল যা ঘটেছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনও পর্যন্ত জাতির কাছে ক্ষমা চাননি।”

সমস্ত রাজনৈতিক চাপানউতোর ও প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করে মঙ্গলবারেও নিজেদের পূর্বঘোষিত সংসদ অভিযানের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুংকার দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। সোমবার গভীর রাতে এক বিশেষ ঘোষণায় তিনি এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা স্পষ্ট করে দেন।

এদিকে, মঙ্গলবার সকালে সিজেপির এই উত্তাল আন্দোলন ও দেশজুড়ে চলা চরম অসন্তোষের মাঝেই নিজের নীরবতা ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংসদ লাইব্রেরি ভবনের জি.এম.সি. বালাযোগী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এনডিএ সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্ক ও পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে ইঙ্গিত করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ভুল পথে চালিত হওয়া অত্যন্ত সহজ, কিন্তু কঠিন হলেও সঠিক পথে ফিরে আসাই আসল কাজ। আর আমাদেরই দায়িত্ব নিয়ে যুবসমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।” প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে দেশের তরুণ প্রজন্ম ও যুবসমাজকে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।