রাজ্যে এবার ৪৩৫টি নতুন গেরুয়া বাস! পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের ঘোষণায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন মানচিত্রে এক বিশাল রদবদলের ঘোষণা করলেন রাজ্যের নতুন পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। সোমবার কসবায় পরিবহন দফতরের এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি একাধিক জনমুখী ও যুগান্তকারী ঘোষণা করেন। মন্ত্রী জানান, রাজ্যবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে খুব শীঘ্রই রাজ্যজুড়ে শয়ে শয়ে নতুন সরকারি বাস রাস্তায় নামানো হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আরও মোট ৪৩৫টি নতুন সরকারি বাস আনছে রাজ্য সরকার, যেগুলি কেবল রাজধানী কলকাতাতেই নয়, বরং সংলগ্ন বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চলেও সমানভাবে চলাচল করবে। অনুষ্ঠানে বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে অর্জুন সিং বলেন, একসময় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন পরিবহন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি এই দফতরকে একটি সঠিক দিশায় দাঁড় করিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন অশুভ শক্তির অপশাসনের জেরে গোটা পরিবহন দফতরটি ভেঙে পড়েছিল। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে আশ্বস্ত করে বলেন যে, বর্তমান প্রশাসনের আমলে সাধারণ মানুষকে আর কোনোভাবেই যাতায়াত সংক্রান্ত বাস সংকটের মুখোমুখি হতে হবে না।
শুধু বাস পরিষেবা নয়, কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রাম চলাচল এবং পরিবহন ব্যবস্থার সামগ্রিক আধুনিকীকরণ নিয়েও এদিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বিগত বাম বা পূর্ববর্তী সরকার যে ঐতিহ্যবাহী ট্রাম পরিষেবাগুলিকে সম্পূর্ণ বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশেই সেই সমস্ত পুরোনো ঐতিহ্যবাহী রুটে আবারও ধাপে ধাপে ট্রাম চলাচল শুরু করা হচ্ছে। দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট এবং নিউ টাউনের মতো জনবহুল ও দর্শনীয় স্থানগুলিতে ট্রাম পরিষেবা চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, এই বিষয়ে ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই ট্রামের রুটেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন রাজ্যবাসী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তাঁর পূর্ববর্তী মন্ত্রীত্বের কার্যকালের কথা স্মরণ করে বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কোন্দল বা বিবাদ না রেখে সম্পূর্ণ সমন্বয় বজায় রেখে কীভাবে উন্নয়নমূলক কাজ করতে হয় এবং পরিবহন দফতরের গতি বাড়াতে হয়, তা তাঁর ভালোভাবেই জানা আছে। বর্তমান সরকারের আর্থিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, সরকারের মাথায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝা থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব বৃদ্ধির যে সমস্ত ক্ষেত্র রয়েছে, তার মধ্যে পরিবহন দফতর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বর্তমান সরকারের বিগত ৯ সপ্তাহের সফল কাজের খতিয়ান পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, তাঁরা ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছেন। পরিবেশ দূষণ রোধ ও পরিবেশবান্ধব সবুজ যাতায়াতের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন যে, কলকাতায় আরও বেশি করে ইলেকট্রিক বাস নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ৬০ শতাংশ এবং রাজ্য সরকারের ৪০ শতাংশ যৌথ অনুদানে এই সমস্ত আধুনিক ইলেকট্রিক বাসগুলি রাজ্যে আনা হবে বলে তিনি জানান।
পরিবহন পরিকাঠামো এবং সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণমূলক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, তিনটি প্রধান নিগমের অধীনস্থ সমস্ত ডিপোতে পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের একটি চোখ সবসময় বন্ধ থাকত এবং রাজনৈতিক স্বার্থে তারা হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে শুধুমাত্র চালকদের বেতন বৃদ্ধি করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই কন্ডাকটর বা বাস চালকদের পাশাপাশি কন্ডাকটরদেরও বেতন বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগামী আগস্ট মাস থেকে কার্যকর হবে এবং কর্মীরা নিয়মিত সেই বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন। এছাড়া রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থার পরিকাঠামো আমূল বদলে দিতে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন যে, রাজ্য সরকার আরও ৪০০টি নতুন বাসের জন্য টেন্ডার আহ্বান করলেই কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ হয়ে যাবে। আগামী মার্চ ২০২৭-এর মধ্যেই রাজ্যবাসী ১০০০টি নতুন বাস হাতে পেয়ে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে, বিগত দিনগুলির সঙ্গে আগামী ১২ মাসের তুলনা করলেই সরকারের রূপান্তরমূলক কাজের প্রকৃত হিসেব স্পষ্ট হয়ে যাবে।