যন্তরমন্তরে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি! পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাঝেই এবার কোন বড় সিদ্ধান্ত নিল ককরোচ জনতা পার্টি?

সোমবারের ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই জাতীয় রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। দিল্লি পুলিশের সঙ্গে উগ্র সংঘর্ষ এবং ব্যাপক লাঠিচার্জের জেরে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলেও পিছু হটতে নারাজ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP)। দলের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যন্তরমন্তরের মঞ্চে চলমান এই তীব্র গণ-আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি আপাতত পুরোপুরি অব্যাহত থাকবে। শুধু তাই নয়, সরকারের ওপর চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে দেশের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা আরও বেশি সংখ্যক প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। গতকালের সেই নৃশংস সংঘর্ষের ঘটনায় যাঁরা পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হয়েছেন কিংবা অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দল। সিজেপির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, পুলিশের গুলিতে বা আঘাতে যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হবে এবং ধৃত কর্মী-সমর্থকদের আইনি লড়াই লড়ার জন্য সমস্ত রকম আইনি সহায়তা নিঃশূল্যে জুগিয়ে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, পুলিশের অকথ্য দমনপীড়ন ও নৃশংস আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক নিজের আমরণ অনশন কর্মসূচি অবিচলভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত খবর পাওয়া গেছে। সিজেপির আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে গিয়ে খোদ দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর যৌথ অভিযানের মুখে পড়ে অন্তত ১১৮ জনেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। এই দীর্ঘ আহতদের তালিকায় ডিসিপি (DCP), অ্যাডিশনাল ডিসিপি, জয়েন্ট কমিশনার এবং স্পেশাল কমিশনারের মতো তাবড় আইপিএস (IPS) পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরাও রেহাই পাননি। জনপথ ও ক্লারিজেস হোটেলের সামনে কর্তব্যরত অবস্থায় বিক্ষোভকারীদের নিক্ষিপ্ত ইটের ঘায়ে উত্তর দিল্লির অ্যাডিশনাল ডিসিপি নীহারিকা এবং আনন্দ কুমার মিশ্রের হাত ভেঙে যাওয়ার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র ছিল যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে কনস্টেবল থেকে শুরু করে খোদ স্পেশাল সিপি-র মাথা ও শরীরেও আঘাত লেগেছে। পুলিশের ওপর এই পূর্বপরিকল্পিত আক্রমণ ও ইটবৃষ্টির ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ কমিশনার নিজেই হাসপাতালে গিয়ে আহত পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের চিকিৎসা সংক্রান্ত খোঁজখবর নেন। কমিশনার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে ইউনিফর্মে আসা প্রতিটি আঘাতই তাঁদের কর্তব্যের প্রতি চরম নিষ্ঠার সাক্ষ্য বহন করে।

উল্লেখ্য, দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টিকারী নীট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং লাগাতার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট দাবিতে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও সিজেপি সমর্থক যন্তরমন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু আগেই জারি করা নিষেধাজ্ঞার জেরে নিরাপত্তা বাহিনী জনপথের কাছে ব্যারিকেড তৈরি করে সেই মিছিল জোরপূর্বক আটকে দেয়। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করতেই মুহূর্তের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপকে দিল্লি পুলিশের এই নির্মম বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা করে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পড়ুয়াদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই সংসদ অভিমুখে পদযাত্রাটি মাঝপথেই স্থগিত করা হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না ঘটা পর্যন্ত সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে আন্দোলন ও অনশন কোনোভাবেই থামবে না। সবমিলিয়ে, যন্তরমন্তরের এই আন্দোলন এখন গোটা দেশের রাজনৈতিক ময়দানে এক চরম সংঘাতের রূপ নিয়েছে।