আইফোন ১৮ প্রো কেনার আগে পকেট ফসকে যাওয়ার ভয়! এই ৩টি বড় বদল কি অ্যাপলপ্রেমীদের হতাশ করবে?

আর মাত্র মাস দুয়েকের অপেক্ষা, তারপরেই বিশ্ব বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে অ্যাপলের অত্যন্ত প্রতীক্ষিত নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন—আইফোন ১৮ প্রো। কিন্তু ফোনটি হাতে পাওয়ার আগেই যেভাবে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ফিচার ফাঁসের খবর সামনে আসছে, তাতে গ্যাজেট প্রেমীদের একাংশের কপালে ইতিমধ্যেই চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। অ্যাপল ভক্তদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং গুঞ্জনকে সত্যি করে এই নতুন মডেলে এমন কিছু অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে, যা গ্রাহকদের পকেট থেকে টাকা খরচ করার আগে অন্তত দু’বার ভাবতে বাধ্য করবে। প্রযুক্তি দুনিয়ায় কান পাতলে এখন থেকেই তিনটি বড় বদল নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, যা আইফোন ১৮ প্রো-র জনপ্রিয়তা এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নতুন আইফোন ১৮ প্রো-র সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বেশি আলোচিত যে গুজবটি সামনে এসেছে, তা হলো ফোনটির ডিজাইন ও পুরুত্ব আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। জনপ্রিয় সোশ্যাল ও টেক প্ল্যাটফর্ম উইবো (Weibo)-এর এক বিশ্বস্ত টিপস্টার ‘ফিক্সড ফোকাস ডিজিটাল’-এর সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, আসন্ন আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স মডেলের পুরুত্ব প্রায় ১০.৭৫ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমান প্রজন্মের আইফোন ১৭ প্রো মডেলের তুলনায় যা প্রায় দুই মিলিমিটার বেশি। ব্যবহারকারীরা যখন ফোনটি সরাসরি হাতে ধরবেন, তখন এই শারীরিক পরিবর্তনটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারবেন। অবশ্য এই তত্ত্বে পুরোপুরি একমত নন অন্য এক টেক সংবাদমাধ্যম ম্যাকওয়ার্ল্ড (Macworld)। তাদের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোনের মূল বডিটি হয়তো প্রায় ৮.৭৫ মিলিমিটারের কাছাকাছিই বজায় রাখা হবে, কিন্তু পেছনের ক্যামেরার মডিউল বা বাম্প এতটাই বিশাল আকার ধারণ করবে যে সামগ্রিকভাবে ফোনটিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ভারী ও স্থূল মনে হবে। তাই অ্যাপল এই ডিভাইসটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে না আনা পর্যন্ত প্রযুক্তিপ্রেমীদের এই তথ্যটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মোটা হওয়ার এই গুঞ্জনের পাশাপাশি ফোনটির ওজন বৃদ্ধি পাওয়া নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। টিপস্টার ‘ইনস্ট্যান্ট ডিজিটাল’ এবং নামী ইনসাইডার ‘আইস ইউনিভার্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলটির ওজন ছুঁতে পারে প্রায় ২৪০ গ্রাম। তুলনামূলকভাবে দেখতে গেলে, ঠিক আগের মডেল অর্থাৎ আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের ওজন ছিল প্রায় ২৩৩ গ্রাম। যদিও অপেক্ষাকৃত ছোট প্রো মডেলটির ওজন ঠিক কতটা বাড়তে পারে, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য হাতে আসেনি, তবে সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে সেটির ক্ষেত্রেও ওজনের পারদ কিছুটা চড়বে। আপনার হাতে যদি বর্তমানের কোনো আইফোন ইতিমধ্যেই একটু ভারী বা অস্বস্তিকর ঠেকে, তবে আসন্ন প্রজন্মের এই বর্ধিত ওজন আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারে বিরক্তি ধরাতে পারে। ফলে নতুন ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই বিষয়টিও মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সবশেষে, টেক বাজারে যে খবরটি সবচেয়ে বেশি নিরাশ করেছে তা হলো অ্যাপলের ক্লাসিক কালার অপশন নিয়ে। বিশেষ করে যাঁদের প্রথম পছন্দ সবসময় প্রিমিয়াম কালো বা তার কাছাকাছি কোনো গাঢ় রঙের আইফোন, তাঁদের জন্য এটি একটি বিরাট ধাক্কা হতে পারে। প্রাথমিক কিছু লিক বা গুঞ্জনে শোনা গিয়েছিল যে অ্যাপল তাদের নতুন এই সিরিজে সিলভার, হালকা নীল, ডার্ক চেরি এবং ক্লাসিক ব্ল্যাক বা কালার টোনে ফোন বাজারে আনতে পারে। কিন্তু একদম সাম্প্রতিক লিক রিপোর্ট বলছে অন্য কথা। নতুন খবর অনুযায়ী, অ্যাপল তাদের প্রো লাইনআপ থেকে বহু জনপ্রিয় ‘কালো’ বা ‘ডার্ক গ্রে’ রঙটি সম্পূর্ণভাবে বাদ দিতে চলেছে। এর পরিবর্তে বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে শুধুমাত্র ডার্ক চেরি, হালকা নীল এবং সিলভার রঙের ভ্যারিয়েন্ট। যদি এই ফাঁস হওয়া তথ্য শেষ পর্যন্ত সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে আগামী অন্তত দু’টি বছর অ্যাপলের প্রো সিরিজে কোনো কালো রঙের আইফোন খুঁজে পাওয়া যাবে না, যা মার্জিত ও অভিজাত রঙের গ্যাজেটপ্রেমীদের জন্য একশো শতাংশ হতাশাজনক।

অবশ্যই এটি মনে রাখা দরকার যে, অ্যাপল অফিশিয়ালি এখনও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা ঘোষণা করেনি। চলতি বছরের শেষের দিকে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজটি বিশ্ববাসীর সামনে আসবে, তখনই এর প্রকৃত ডিজাইন, কালার অপশন এবং স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে সম্পূর্ণ সত্যতা স্পষ্ট হবে। তবে আপনি যদি একজন টেকপ্রেমী হন যিনি একটি অত্যন্ত পাতলা, হালকা ও ওজনে কম এবং ঐতিহ্যবাহী কালো রঙের প্রিমিয়াম ফোনের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ছিলেন, তবে আপগ্রেড করার আগে এই সমস্ত ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো একবার ঝালিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।