অর্থনৈতিক ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের হাতে কি সোনা ফলানোর চাবি? মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল পদক্ষেপে ভাগ্য বদলের পালা!

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তানের জন্য এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির যাঁতাকলে পিষ্ট প্রতিবেশি এই দেশটির দীর্ঘমেয়াদী পেট্রোলিয়াম সমস্যা সমাধানের এক বিরাট সম্ভাবনা সামনে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো তাদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের কারণে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকেছে। সৌদি আরবের পর এবার কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানের মতো ধনী আরব দেশগুলো পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সামরিক চুক্তি সম্প্রসারণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও যুদ্ধ-অভিজ্ঞতাপূর্ণ সেনাবাহিনী, দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং যুদ্ধবিমানের মজুদের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে পাকিস্তান বর্তমানে এক অত্যন্ত আকর্ষক ও নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা অংশীদার হয়ে উঠেছে।
এই প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে পাকিস্তানের অর্থনীতি দারুণভাবে উপকৃত হতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট ও জ্বালানি নিরাপত্তার অভাবের সঙ্গে লড়াই করা পাকিস্তানের জন্য এই অংশীদারিত্ব জ্বালানি সহযোগিতা, দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সার্বভৌম সম্পদ তহবিলে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। অতীতে সৌদি আরব আর্থিক সহায়তা দিলেও, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী কুয়েত ও অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তান তার সামরিক শক্তিকে সোজা অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারবে। এর ফলে তেল আমদানির বিপুল চাপ কমার পাশাপাশি পরিকাঠামো ও শিল্প উন্নয়নেও বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হবে।
তবে এই বিরাট সুযোগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গুরুতর কূটনৈতিক ঝুঁকিও। একদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা অংশীদার হওয়া এবং অন্যদিকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা—উভয় ভূমিকা একসঙ্গে পালন করা পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের কড়া নজর এড়িয়ে সুন্নি আরব রাজতন্ত্রগুলোর জোটে পাক সৈন্য ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হলে তা ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ফাটল ধরাতে পারে। অতীতে বেলুচিস্তান সীমান্ত সংঘাতের মতো ঘটনাগুলোর কথা মাথায় রাখলে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ইরানকে স্থায়ী প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে এনে দাঁড় করাতে পারে। তাছাড়া, আফগানিস্তান সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সামলানোর পাশাপাশি ভারতের মতো পূর্ব প্রান্তের সামরিক চাপ বজায় রেখে বিদেশে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর মতো ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা নিয়েও বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে।