৪৪০ কোটি টাকার হদিশ! কলকাতা হাইকোর্টে বিরাট ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস!

কলকাতা হাইকোর্টে এক বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখে পড়ল কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। দলের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর জারি করা নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা অন্তর্বর্তী আবেদন সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে আদালত। গত সোমবার বিচারপতির গুরুত্বপূর্ণ একক বেঞ্চ এই মামলায় একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দেন। আদালতের এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত ইডির ফ্রিজ করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির উপর কোনো রকম স্থগিতাদেশ মিলল না এবং সেগুলি আগের মতোই সম্পূর্ণ ফ্রিজ অবস্থাতেই বহাল থাকছে।
রাজনৈতিক এবং আইনি—উভয় দিক থেকেই এই মামলাটি বর্তমানে রাজ্যজুড়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডির জোরালো দাবি অনুযায়ী, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বর্তমানে তদন্তের স্বার্থে ফ্রিজ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে ৩টি অ্যাকাউন্ট গোয়েন্দাদের মূল নজরদারিতে রয়েছে, কারণ সেই নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রকৃত উৎস কী, কোথা থেকে এই টাকা এল, তার সমস্ত লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবের নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার জন্যই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইডির এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নিযুক্ত আইনজীবীদের মূল বক্তব্য ছিল যে, একই আইনি বিষয় নিয়ে এর আগে আদালতে ইতিপূর্বে শুনানি হয়েছে এবং মাননীয় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি পর্যবেক্ষণও দিয়েছিলেন। সেই বিশেষ পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নতুন করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার এই নোটিস জারি করা কতটা আইনসঙ্গত বা বৈধ, তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবীদের জোরালো দাবি ছিল যে, কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি পূর্ববর্তী বিচারিক পর্যবেক্ষণগুলিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে, যা প্রচলিত আইনের দৃষ্টিতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরবর্তীতে এই মামলাটি শুনানির জন্য কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক এজলাসে স্থানান্তরিত হয়। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে জোরদার সওয়াল-জবাব চলে। ইডির পক্ষ থেকে আদালতে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে জানানো হয় যে, এই আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্ত এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে চলছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ রাখা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে শেষ হওয়ার আগে যদি অ্যাকাউন্টগুলি পুনরায় সচল করে দেওয়া হয়, তবে সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তদন্তের গতিপ্রকৃতি প্রভাবিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা।