বিদেশ যাত্রায় বড় ধাক্কা! চোখের চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাওয়া হলো না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের, হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ

ডিজে মন্তব্য মামলায় সাময়িকভাবে আমেরিকায় গিয়ে চোখের চিকিৎসার অনুমতি পেলেন না তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন যে, সরাসরি বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার আগে প্রথমে রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম (SSKM)-এর চক্ষু বিভাগে গিয়ে বিশদ চোখের পরীক্ষা করাতে হবে। সেই পরীক্ষার আসল রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার পরেই একমাত্র বিদেশে চিকিৎসার প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা ও জরুরি অবস্থা নিয়ে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। জানা গেছে, তাঁর এই বিদেশ যাওয়ার অনুমতির আবেদন নিয়ে আগামী আগস্ট মাসে পুনরায় বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এদিনের মামলার শুনানিপর্বে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, এই বিশেষ চিকিৎসার জন্য কলকাতার কোনো উন্নত চক্ষু হাসপাতাল বা স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মতামত বা পরামর্শ আগে নেওয়া হয়েছিল কি না। বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন যে, যদি এমন কোনো গুরুতর ও জটিল চক্ষু-সংক্রান্ত সমস্যা থেকে থাকে যার চিকিৎসা কলকাতার কোনো হাসপাতালে করা চিকিৎসকদের পক্ষে সম্ভব নয়, তবে সবার প্রথমে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের কাছে গিয়ে সমস্ত পরীক্ষা করাতে হবে। সেই হাসপাতালের সরকারি রিপোর্ট এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সুনির্দিষ্ট মতামত তখনই আদালতে দাপ্তরিকভাবে জমা দিতে হবে।

বিচারপতি আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন যে, যদি এসএসকেএম-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা লিখিতভাবে এই মর্মে মত দেন যে এই রোগ বা জটিলতার চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবেই কলকাতার বাইরে বা দেশের মাটিতে সম্ভব নয় এবং বিদেশে চিকিৎসা করানো ছাড়া আর কোনো কার্যকর বিকল্প রাস্তা নেই, কেবল তবেই সেই চিকিৎসা-সংক্রান্ত মতামতকে বিচার্য বিষয় হিসেবে গ্রহণ করা হবে। আদালত সম্পূর্ণভাবে বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই বিষয়টি বিবেচনা করবে। যদি আইনগতভাবে প্রমাণিত হয় যে সত্যিই কলকাতায় এই চিকিৎসা সম্ভব নয় এবং রোগীর ক্ষেত্রে বিদেশে যাওয়া অত্যন্ত অপরিহার্য, তবেই আদালত তাঁর বিদেশ যাওয়ার অনুমতির বিষয়টি বিবেচনা করবে।

শুনানিপর্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী আদালতের সামনে যুক্তি দেখিয়ে জানান যে, গত প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা করাচ্ছেন এবং সেখানে তাঁর চিকিৎসকের কাছে নিয়মিত রুটিন চেকআপ চলে। পাশাপাশি, জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে একটি পৃথক আবেদনও আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এর সরাসরি জবাবে বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন যে, বিদেশ যাওয়ার অনুমতির এই মূল আবেদনটির ওপর আগামী আগস্ট মাসেই আইনি শুনানি হবে। এর আগে তড়িঘড়ি কোনো অন্তর্বর্তীকালীন ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষের আইনজীবী আদালতে জোরালো সওয়াল করে দাবি করেন যে, শুধুমাত্র এই একটি ডিজে মন্তব্য মামলাই নয়, এর আগেও একাধিক আইনি ও ফৌজদারি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি জড়িত রয়েছেন। এইরকম একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে যদি তাঁকে সহজে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়, তবে তা চলমান তদন্ত প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং তদন্তে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। মামলার শুনানিকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে আরও মন্তব্য করেন যে, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অন্য কোনো এজলাসে যা করা হয়, তা যেন এই এজলাসে না করা হয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে তিনি নিজে একসময় মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ফলে চিকিৎসাগত জটিলতা সম্পর্কে তাঁর সম্পূর্ণ ধারণা রয়েছে।

এদিকে, ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বস্তির খবর হলো যে, শর্তসাপেক্ষে তাঁর আইনি রক্ষাকবচের মেয়াদ আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ওই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেফতারির মতো দমনমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না। তবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় যদি তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা না করেন, তবে সেই বিষয়ে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের সরাসরি হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আদালতের পূর্বের কড়া নির্দেশ বহাল রেখে জানানো হয়েছে যে, আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে বিদেশে পা রাখতে পারবেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।