৭ দিনের মধ্যে কাজের হিসাব! বিধায়কদের জন্য ঐতিহাসিক নির্দেশিকা জারি করে রাজনীতির ময়দানে বিরাট চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার চলতি অধিবেশনে রাজ্য রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে তিনি এক কড়া ও যুগান্তকারী প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখন থেকে রাজ্যের যেকোনো বিধায়ক তাঁর নিজ নিজ এলাকার কোনো জনকল্যাণমূলক সমস্যা বা প্রকল্পের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, তার লিখিত ও সন্তোষজনক জবাব সুনির্দিষ্টভাবে মাত্র ৭ দিনের মধ্যে দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় রাজ্যের আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র ৭ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা বলেই ক্ষান্ত থাকেননি, তিনি ওই নির্দেশিকায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক বা দপ্তরকে লিখিত জবাবে বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে যে ঠিক কী কী কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, কোন কোন কাজ এখনও পর্যন্ত বাকি রয়েছে, কী কারণে নির্দিষ্ট সময়ে সেই কাজগুলি করা সম্ভব হয়নি এবং সার্বিকভাবে ওই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হতে আর ঠিক কতদিন সময় লাগতে পারে। এই সমস্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সম্বলিত রিপোর্টের একটি দাপ্তরিক প্রতিলিপি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব কার্যালয় বা সিএমও (CMO)-তেও আবশ্যিকভাবে পাঠাতে হবে। শুধু তাই নয়, এই ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরও এক ধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রতি তিন মাস অন্তর ওই সমস্ত সমস্যার কাজের অগ্রগতি বা প্রোগ্রেস রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়কদের কাছে পাঠাতে হবে। এর ফলে বিধানসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উত্থাপিত সমস্যাগুলির নিষ্পত্তি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিয়মিত ও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের কাজের গতি বাড়াতে এবং জনপ্রতিনিধিদের ক্ষোভ প্রশমনে মুখ্যমন্ত্রীর এই দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সাহসী ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্তের পরই বিধানসভার অন্দরে এক অভূতপূর্ব ইতিবাচক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খোদ তৃণমূল কংগ্রেস শিবির তথা শাসক দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম মুখ্যমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের তীব্র প্রশংসা করে তাঁর উচ্ছ্বসিত কদর করেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ এক সম্পূর্ণ নতুন ও যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। বিধানসভার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে এমন সুনির্দিষ্ট ও কড়া নিয়ম কখনও দেখা যায়নি।” ফিরহাদ আরও যোগ করেন, “আজ বিধায়কদের যে সর্বোচ্চ সম্মান ও অধিকার মুখ্যমন্ত্রী পাইয়ে দিলেন, তা আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আগে কখনও দেখিনি। আমি আমার দীর্ঘ কেরিয়ারে শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরেই দায়িত্ব পালন করেছি, কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এমন নিখুঁত ব্যবস্থা এর আগে বাংলার মাটিতে তৈরি হতে দেখেনি।” রাজনৈতিক মহলের বড় একটা অংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন ব্যবস্থার ফলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলির সমাধান যেমন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে হবে, তেমনই প্রশাসনিক স্তরে জবাবদিহিতাও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।