‘বন্দে মাতরম’ অবমাননা করলেই সোজা জেল! বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই অমিত শাহের মেগা বিল নিয়ে উত্তাল সংসদ

আজ সকাল সাড়ে দশটায় সংসদের কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টি (CPP) অফিসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে বসছেন লোকসভার কংগ্রেস সাংসদরা। বিরোধী দলনেতাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত এবং যৌথ রণকৌশল সম্পর্কে এদিন দলীয় সাংসদদের ওয়াকিবহাল করা হবে। এ প্রসঙ্গে এএনআই-কে (ANI) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস সাংসদ কিরণ কুমার চামালা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, INDIA জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনার পরেই কংগ্রেস তাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছে এবং দলের নির্দেশিত পথেই তাঁরা সংসদীয় লড়াইয়ে নামবেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলিতে গণহারে দলবদল এবং নীতিহীন সুবিধাবাদের রাজনীতি কঠোর হাতে রোধ করতে লোকসভায় একটি জরুরি মুলতুবি প্রস্তাবের নোটিশ জমা দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারি। তাঁর জোরালো দাবি, অবিলম্বে প্রশ্নোত্তরমঞ্চ ও অন্যান্য তালিকাভুক্ত কাজ স্থগিত রেখে নতুন এবং কঠোর দলবদল বিরোধী আইন প্রণয়নের ওপর সংসদের অন্দরে বিশেষ আলোচনা শুরু করা হোক।
এদিকে, আজ সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া সংসদের বহুল প্রতীক্ষিত বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই বেশ কয়েকটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। লোকসভার আজকের কার্যসূচি অনুযায়ী, শোকপ্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং বিভিন্ন নথি পেশের পাশাপাশি আইন প্রণয়ন কর্মসূচির অধীনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ‘দ্য সুপ্রিম কোর্ট (নাম্বার অফ জাজেস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ পেশ করার অনুমতি চাইবেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। এই নতুন বিলটির মাধ্যমে ১৯৫৬ সালের মূল আইন সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির অনুমোদিত সংখ্যা বর্তমানের ৩৩ জন থেকে বাড়িয়ে একেবারে ৩৭ জন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সরকার এর আগে এই বিষয়ে যে অধ্যাদেশ বা অর্ডিন্যান্স জারি করেছিল, বর্তমান এই নতুন বিলটি মূলত তারই সাংবিধানিক রূপান্তর। এছাড়াও লোকসভার কার্যসূচিতে ‘জয়েন্ট কমিটি অন অফিসেস অফ প্রফিট’-এর শূন্যপদ পূরণের প্রস্তাব এবং প্রয়াত একাধিক প্রাক্তন সাংসদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ শোকপ্রস্তাব পাঠ করা হবে।
রাজ্যসভার কক্ষ থেকেও আজকের দিনে এক অত্যন্ত বড় এবং যুগান্তকারী খবরের ইঙ্গিত মিলেছে। সংসদের উচ্চকক্ষে আজ একটি অত্যন্ত কঠোর বিল পেশ করতে চলেছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’-এর ব্যাপক সংশোধনের উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ বিলটি আনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই নতুন আইন অনুযায়ী, জাতীয় সঙ্গীত তথা ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বাধা সৃষ্টি করা, বিঘ্ন ঘটানো বা তাকে অসম্মান করাকে সরাসরি অ জামিনযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। বাদল অধিবেশনের সূচনার দিনেই এই দুটি মেগা বিল ও রাজনৈতিক তরজাকে কেন্দ্র করে দেশের সর্বোচ্চ সংসদীয় চত্বরে তীব্র হট্টগোল ও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।