আজ থেকে শুরু সংসদের উত্তাল বর্ষাকালীন অধিবেশন! বিরোধীদের আক্রমণের মুখে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ভারতীয় সংসদের বহু প্রতীক্ষিত বর্ষাকালীন বা বাদল অধিবেশন। অধিবেশনের প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশা প্রকাশ করেছেন যে এই অধিবেশন অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যেখানে গঠনমূলক তথ্য ও সুস্থ যুক্তির উপস্থিতি থাকে, সেখানে রাজনৈতিক হট্টগোল বা ‘তুফান’-এর কোনো স্থান থাকতে পারে না। সংসদের উভয় কক্ষের কার্যক্রম অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও ফলপ্রসূ করার জন্য তিনি সকল রাজনৈতিক দলের সাংসদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আশাবাদের সুরের বিপরীতে দাঁড়িয়ে অধিবেশনের শুরু থেকেই সংসদ ভবন চত্বরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত ও উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।

এবারের বাদল অধিবেশন চলবে আগামী ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত। অধিবেশন শুরুর আগেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি (BAC)-র একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, যেখানে সরকার এবং বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিরা আইন প্রণয়নের মূল কর্মসূচি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা সেরে নেন। একই দিনে রাজ্যসভার বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকেও বিভিন্ন বিতর্ক ও আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় বণ্টন চূড়ান্ত করা হবে। তা সত্ত্বেও বিরোধীরা এবার কেন্দ্র সরকারকে কোণঠাসা করতে একাধিক বিস্ফোরক ও স্পর্শকাতর ইস্যুকে হাতিয়ার করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

বিরোধীদের পক্ষ থেকে অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী চুরির গুরুতর অভিযোগ, বিতর্কিত নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা, লাগাতার জ্বালানি মহার্ঘতার জেরে সৃষ্ট অর্থনৈতিক উদ্বেগ, বিরোধী শিবির ছেড়ে জনপ্রতিনিধিদের দলবদলের প্রবণতা এবং জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করার মতো প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে প্রবলভাবে घेरার সর্বাত্মক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন সরকারও বসে নেই। সরকারের তরফ থেকে এই বিশেষ অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম’ ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন-সহ দেশের নীতিগত ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয়কে শীর্ষ অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারের বর্ষাকালীন অধিবেশনে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI) নামের একটি নতুন রাজনৈতিক দল প্রথমবারের মতো সংসদে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ নিজেদের রাজনৈতিক গোষ্ঠী একত্রিত করে এই নতুন দলটি গঠন করেছেন এবং ইতোমধ্যে এনডিএ জোটে সামিল হয়েছেন। এর ফলে সংসদের ভেতরে সংখ্যার সমীকরণ এবং রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে এক নতুন মোড় এসেছে। সবমিলিয়ে, নানা বিতর্ক, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে শুরু হওয়া সংসদের এই বাদল অধিবেশন যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তপ্ত রাখবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।