গালিগালাজ করলেই ‘অশ্লীল’ নয়! সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়ে শোরগোল আইনি মহলে

কাউকে গালিগালাজ করা বা কটু কথা বলা অত্যন্ত অভদ্র আচরণ হতে পারে, কিন্তু আইনের চোখে তা সব সময় ‘অশ্লীল’ (Obscenity) নয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ২৯৪ ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এমনই তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চালির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, অভদ্র ভাষা আর অশ্লীল কাজের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ কী? সুপ্রিম কোর্টের মতে, কোনো শব্দ বা আচরণ তখনই অশ্লীল বলে গণ্য হবে, যদি তার মধ্যে যৌন উস্কানি থাকে কিংবা তা মানুষের মনকে বিকৃত করার ক্ষমতা রাখে। শুধুমাত্র রাগ থেকে বা অপমান করার উদ্দেশ্যে কাউকে গালি দিলে বা কটু কথা বললে তাকে আইনি পরিভাষায় ‘অশ্লীলতা’ বলা যাবে না।
মামলার প্রেক্ষাপট ঘটনাটি ২০১৭ সালের, তামিলনাড়ুর। জমির বিবাদ নিয়ে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে মারধর করার পাশাপাশি তাঁর মাকে জড়িয়ে অত্যন্ত কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। নিম্ন আদালত মারধরের পাশাপাশি ওই বৃদ্ধকে ‘অশ্লীল আচরণ’-এর দায়েও দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ওই বৃদ্ধ।
বৃদ্ধের শাস্তি ও আদালতের রায় সর্বোচ্চ আদালত ওই ব্যক্তির ‘অশ্লীল আচরণ’ ও অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। তবে মারধরের অভিযোগটি বহাল রাখা হয়েছে। বৃদ্ধের বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে তাঁর জেলের মেয়াদ কমিয়ে ‘আদালত কক্ষ বন্ধ হওয়া পর্যন্ত’ (Till the rising of the court) রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে অভিযোগকারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এই রায়ের ফলে আইনি মহলে নতুন করে বিতর্কের পাশাপাশি আইনি ব্যাখ্যায় এক নতুন মাত্রা যোগ হলো।