দিল্লির মঞ্চে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সামনেই বড় বার্তা! অর্ণব গোস্বামীর মুখে ‘দেশ প্রথম’, ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে নতুন দিগন্ত

‘জাতি প্রথম’—এই মন্ত্রকে পাথেয় করে আজ, ১৮ জুলাই নতুন দিল্লিতে আয়োজিত হলো রিপাবলিক মিডিয়া নেটওয়ার্কের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিরক্ষা অনুষ্ঠান ‘ফোর্সেস ফার্স্ট কনক্লেভ’-এর তৃতীয় সংস্করণ। দেশের নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নীতি নির্ধারক, প্রাক্তন সেনাকর্তা এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই বিশেষ আয়োজনের মূল উপজীব্য ছিল ভারতের সামরিক ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান ‘আত্মনির্ভরশীলতা’।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই রিপাবলিক মিডিয়া নেটওয়ার্কের এডিটর-ইন-চিফ অর্ণব গোস্বামী ভারতের প্রতিরক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বনির্ভরতা নিয়ে এক জোরালো ভাষণ দেন। তিনি বলেন, “রিপাবলিক নেটওয়ার্ক শুরুর সময় অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিলেন বিদেশি বিনিয়োগ নেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, এটি একটি শতভাগ ভারতীয় প্রতিষ্ঠান, যা সাংবাদিকদের দ্বারা পরিচালিত এবং আমাদের মেধা ও ঝুঁকিতেই গড়ে উঠেছে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতের মেধা ও কৌশল যখন ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে বিকশিত হয়, তখনই প্রকৃত সাফল্য আসে। দেশের গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা দেশের হাতেই থাকা প্রয়োজন, যা বিদেশিদের বিনিয়োগের মাধ্যমে বিঘ্নিত হতে পারে।
সাংবাদিকতার নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অর্ণব গোস্বামী তাঁর জাতীয়তাবাদী অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন। তাঁর কথায়, “আমি বিশ্বাস করি, আপনি যদি জাতীয়তাবাদী না হন, তবে আপনি সাংবাদিক হতে পারবেন না। অনেকে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন, কিন্তু বর্তমান ভারতের যে পরিবর্তন ও উন্নয়ন, তাতে এই চিন্তাধারার কোনো বিকল্প নেই।” তিনি বর্তমান ভারতের বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, যে কোনো সংকটে এখন আর হাত গুটিয়ে বসে থাকার দিন নেই। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো অভিযানের কথা স্মরণ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বর্তমান ভারত আক্রমণাত্মক ও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে বিশ্বাসী।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর উপস্থিতিতে অর্ণব তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আমরা ভাগ্যবান যে আপনার মতো প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে পেয়েছি। সীমান্তের ওপার থেকে আপনার প্রতিটি বার্তার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়। আপনার প্রতিটি শব্দ আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।”
ফোর্সেস ফার্স্ট কনক্লেভের এই তৃতীয় সংস্করণ ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার ও আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে আরও সুদৃঢ় করল। এই মঞ্চ থেকে দেওয়া বার্তা পরিষ্কার—নিরাপত্তা হোক বা গণমাধ্যম, ভারতের ভবিষ্যৎ এবার দেশীয় মেধা ও দেশপ্রেমের শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে।