বর্ণবাদের শিকল ভাঙা মহাপুরুষ! নেসন ম্যান্ডেলার ৬৭ মিনিটের লড়াইয়ে বিশ্বজুড়ে কেন পালিত হয় এই বিশেষ দিন?

নেসন ম্যান্ডেলা—একটি নাম, যা আজও সাহসের সমার্থক। ১৮ জুলাই, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘নেসন ম্যান্ডেলা আন্তর্জাতিক দিবস’। ১৯১৮ সালের এই দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার ম्वेজো গ্রামে জন্ম নেওয়া এই মহাপুরুষ কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের এক জ্বলন্ত প্রতীক। ছোটবেলায় যাঁর নাম ছিল ‘রোলিহলাহা’ (যার অর্থ দুষ্টু), তিনিই বড় হয়ে এক সময় বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকারের অত্যাচারে যখন কৃষ্ণাঙ্গদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তখন ম্যান্ডেলা গর্জে উঠেছিলেন। ১৯৪৪ সালে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে তিনি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। এক সময় অহিংস আন্দোলন ব্যর্থ হলে তিনি ‘উমখোন্তো ওয়ে সিজওয়ে’-র মতো সশস্ত্র শাখা গড়ে তোলেন। ১৯৬২ সালে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর কুখ্যাত রোবেন দ্বীপের জেলে বন্দি থাকেন। জেলখানাতেও তিনি দমে যাননি, উল্টো অন্য বন্দিদের শিক্ষা দিয়েছেন। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি প্রতিশোধের বদলে বেছে নিয়েছিলেন ক্ষমার পথ। শ্বেতাঙ্গদের প্রতি ঘৃণা নয়, বরং মেলবন্ধনের মাধ্যমে তিনি দেশ গড়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হন। তাঁর বর্ণহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

তিনি কেবল রাজনীতিক ছিলেন না, ছিলেন ‘উবুন্তু’ দর্শনের ধারক। নোবেল শান্তি পুরস্কার, ভারতের ‘ভারত রত্ন’—এমন অসংখ্য সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রপুঞ্জ এই দিনটিকে ম্যান্ডেলার সম্মানে উৎসর্গ করেছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিককে অন্তত ৬৭ মিনিট সমাজসেবায় ব্যয় করার আহ্বান জানানো হয়—যা ম্যান্ডেলার কর্মময় জীবনের ৬৭ বছরের প্রতীক। ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ৯৫ বছর বয়সে তিনি বিদায় নিলেও, আজও তাঁর বাণী “সাহস মানে ভয় না পাওয়া নয়, বরং ভয়কে জয় করা”—বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে পথ দেখায়। আজ যখন পৃথিবী অসহিষ্ণুতা ও বর্ণবাদে জর্জরিত, তখন ম্যান্ডেলার মেলবন্ধনের রাজনীতি আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়।