কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি কি ভুল? জাহাজ কারখানা নিয়ে টাটার সাফ জবাব ঘিরে অস্বস্তিতে সরকার।

টাটা গোষ্ঠীর ১০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কেরল রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। রাজ্যের ‘মিশন সমুদ্র’ প্রকল্পের অধীনে একটি জাহাজ কারখানা নির্মাণের জন্য এই বিপুল অর্থ বিনিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কয়েকদিনের মধ্যেই টাটা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সরাসরি তা অস্বীকার করায় চূড়ান্ত বিড়ম্বনায় পড়েছে রাজ্যের কংগ্রেস সরকার।

ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে, যখন একটি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন দাবি করেন যে, টাটা গোষ্ঠী রাজ্যের মেরিটাইম সেক্টরে বিনিয়োগ করতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয় তিরুবনন্তপুরমে আয়োজিত একটি বিনিয়োগ সম্মেলনেও। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পরই শুক্রবার টাটা গোষ্ঠীর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনো প্রস্তাব নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনাই হয়নি। পাশাপাশি, টাটা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কেরল কিংবা ভারতের অন্য কোথাও তাদের নতুন কোনো জাহাজ কারখানা নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা নেই।

টাটা গোষ্ঠীর এই কঠোর অবস্থান প্রকাশের পরই কেরল সরকারের অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী সতীশনকে নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়ে শুক্রবার রাতে রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগ একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে। সেই বিবৃতিতে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রী আসলে শিল্পক্ষেত্রে সামগ্রিক বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন এবং দুর্ভাগ্যবশত তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের দাবি, বিভিন্ন সময়ে টাটা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে কোনো নির্দিষ্ট জাহাজ কারখানা নির্মাণের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ‘মিশন সমুদ্র’ প্রকল্পের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়তো উদাহরণ হিসেবে টাটা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেছিলেন, যা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেরল সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠে দাঁড়িয়েছে। সরকারের অন্দরমহলের একাংশ মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রীর গত এক সপ্তাহের বক্তব্যের বিষয়টি শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের নজরে আনা উচিত ছিল। এমনকি সংবাদমাধ্যম যখন এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে, তখনও দপ্তরের কর্মকর্তারা কোনো ব্যাখ্যা বা সংশোধনী প্রকাশ করেননি। সরকারের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এমন বড় দাবি করতে দেওয়া প্রশাসনিক গাফিলতির পরিচয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির।

টাটা গোষ্ঠীর সরাসরি নস্যাৎ করার ফলে সরকারের ভাবমূর্তি যে ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিনিয়োগের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ্যে আসায় শিল্প মহলেও বেশ অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। সরকারি এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।