রাত জেগে কাজ করবে সরকারি অফিস! রাজ্যে নাইট শিফ্ট চালুর জল্পনায় তোলপাড়, জেনে নিন আসল সত্য।

রাজ্যের কর্মসংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনে আমূল পরিবর্তনের এক চাঞ্চল্যকর খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। দাবি করা হচ্ছে, রাজ্যের অর্থপ্রবাহ বা মানি ফ্লো বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার নাকি এক বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রেস্তোরাঁ ও শপিং মলের পাশাপাশি সরকারি অফিসগুলোকেও রাতভর খোলা রাখার চিন্তাভাবনা চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষ থেকে সরকারি কর্মচারী—সবার মধ্যেই প্রবল কৌতূহল ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতভর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখার ফলে শহরের পরিবহন ব্যবস্থাতেও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। রাস্তায় রাতেও সচল থাকবে বাস, অটো এবং ট্যাক্সি পরিষেবা। এর ফলে নাইট শিফ্টে কাজ করা ব্যক্তিদের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে সামনে এসেছে সরকারি কর্মীদের রাতের শিফ্টে কাজ করার বিষয়টি। কোনো ফাইল বা কাজ যাতে পেন্ডিং না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই নাকি রাজ্য সরকার এই ২ শিফ্টে অফিস পরিচালনার মডেল নিয়ে ভাবছে।
তবে এই খবরের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। কোনো অফিসিয়াল নোটিশ বা সরকারি নির্দেশিকাও এই দাবির স্বপক্ষে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক সূত্রেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে, এই খবরটি এখন পর্যন্ত নিছক জল্পনা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি গুজব হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি অফিস রাতভর খোলা রাখা একটি বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যার জন্য বিশাল পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার প্রয়োজন। এমন বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী ও পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। যেহেতু এখন পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি, তাই আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি না আসা পর্যন্ত এই খবরকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করার কোনো অবকাশ নেই। বর্তমানে যে তথ্যগুলি প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলিকে কেবলই সোশ্যাল মিডিয়ার গুঞ্জন হিসেবেই দেখা উচিত।