তারকেশ্বর স্টেশনে হাই-টেক নিরাপত্তা! যাত্রীদের সুরক্ষায় নতুন আরপিএফ ভবনের উদ্বোধন

পূর্ব রেলের যাত্রী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় ও আধুনিক করে তুলতে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল রেল কর্তৃপক্ষ। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্করের বিশেষ উদ্যোগে তারকেশ্বর স্টেশনে একটি অত্যাধুনিক এবং সম্পূর্ণ নতুন রেলওয়ে সুরক্ষা বল (RPF) পোস্ট ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হলো। এই নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন পূর্ব রেলওয়ের আইজি-সহ-প্রধান মুখ্য নিরাপত্তা কমিশনার শ্রী এ. এন. সিনহা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাওড়ার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) শ্রী বিশাল কাপুর, সিনিয়র ডিভিশনাল সিকিউরিটি কমিশনার (আরপিএফ/হাওড়া) এবং রেলের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত পরিকাঠামোয় সজ্জিত এই নতুন আরপিএফ পোস্টটি তারকেশ্বর স্টেশনে নিরাপত্তার মানচিত্রে এক নতুন মাইলফলক। এর ফলে স্টেশন চত্বরে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং রেলের সম্পত্তি ও যাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষা করা এখন অনেক বেশি কার্যকর হবে। আধুনিক এই সুবিধা আরপিএফ কর্মীদের কর্মদক্ষতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

উদ্বোধনের পরপরই আসন্ন শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে একটি উচ্চ-পর্যায়ের নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর শ্রাবণী মেলায় তারকেশ্বরে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। এই বিপুল জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রেল প্রশাসন কোনো প্রকার খামতি রাখতে নারাজ। নিরাপত্তা আধিকারিকরা ভিড় নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি (CCTV) নজরদারি, স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত যাবতীয় পরিকল্পনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে রেল ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যেই হুগলি রুরাল পুলিশ এবং হাওড়া রেল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চ-পর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রেল ও রাজ্য পুলিশ প্রশাসন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে প্রতিটি পুণ্যার্থী ও যাত্রী নির্বিঘ্নে তারকেশ্বরে যাতায়াত করতে পারেন।

এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানান, “তারকেশ্বরে এই নতুন আরপিএফ পোস্টের উদ্বোধন এবং আমাদের কঠোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি উৎসবের মরসুমে প্রতিটি যাত্রী ও পুণ্যার্থীর জন্য একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পূর্ব রেলের দায়বদ্ধতাকেই প্রতিফলন করে।” রেল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নতুন পরিকাঠামো ও পুলিশের সঙ্গে শক্তিশালী সমন্বয়ের ফলে শ্রাবণী মেলা চলাকালীন কোনো জটিলতা ছাড়াই যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। স্টেশন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই নতুন আরপিএফ ভবনটি একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।