‘জোর করে দখল নয়’! কলেজ স্কোয়ারের খুঁটিপুজোর মঞ্চ থেকে ‘পুজো দখল’ সংস্কৃতি নিয়ে গর্জে উঠলেন শমীক ভট্টাচার্য

কলেজ স্কোয়ারের দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে এসে পুজো কমিটির সভাপতি হওয়া এবং সার্বিকভাবে ‘পুজো দখলের সংস্কৃতি’ নিয়ে পুনরায় কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পুজোর আয়োজনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে তিনি এদিন রীতিমতো গর্জে ওঠেন।

অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যেকোনো সমাজে যুগে যুগে প্রথা ও রীতি-নীতিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। কলেজ স্কোয়ারের সঙ্গে বহু মনীষীর নাম জড়িয়ে রয়েছে। পুজোকে রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা প্রয়োজন। থিমের আড়ম্বর যতই বেশি হোক না কেন, মণ্ডপের ভেতরে যদি শাস্ত্রীয় রীতি মেনে ‘কলাবউ’ স্নান না হয়, তবে সেই প্যান্ডেলে ভিড় হবে না।”

পুজো কমিটির পদাধিকারী হওয়া প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, “পুজোকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত। আমাকে দয়া করে কোনও পদে রাখবেন না। আমি যদি কোনও পদে থাকি, তবে যে বার্তা দিতে পারব, তা অন্য সময় পারব না। দলের কোনও বিধায়ক যদি নিজের নির্বাচনী এলাকার পুজো কমিটিতে যুক্ত হতে চান, তবে অবশ্যই হতে পারেন। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোর করে দুর্গাপুজো দখল করার সংস্কৃতি চলতে পারে না। এটা একেবারেই কাম্য নয়।”

এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত গুণীজনদের মাঝে নিজেকে ‘বেগুন’ বলে সম্বোধন করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমি গর্বিত যে এমন একটি ঐতিহ্যবাহী পুজোর সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছি। আমি মনে করি না সমাজ শুধুমাত্র রাজনীতি সাপেক্ষ। পুজো কমিটির সভাপতি বা চেয়ারম্যান করার ইচ্ছে থাকলে করুন, কিন্তু জোর করে দখল করবেন না। রাজনীতির চাপের কাছে নতিস্বীকার করা উচিত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী পুজোয় এলে প্রাসঙ্গিকতা অবশ্যই বাড়ে, কিন্তু তিনি না এলেও ভক্তি ও নিষ্ঠা থাকলে পুজো তার নিজস্ব মহিমায় টিকে থাকবে। অতীতের সরকারগুলোর সময় পাড়ার পুজোকে উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই নেতারা এখন কোথায় রয়েছেন তা সকলেই জানেন।” মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাসের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি রাজ্য সভাপতি আশাবাদী যে, এবার পশ্চিমবঙ্গে মানুষ নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে পুজো উদযাপন করতে পারবেন। শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া বার্তা আসন্ন দুর্গাপূজার আগে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।