পরমাণু কেন্দ্রে বড়সড় নিরাপত্তা ঝুঁকি! ডার্ক ওয়েবে ফাঁস কুদানকুলাম বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গোপন নথি

ভারতের পরমাণু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড়সড় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কুদানকুলাম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অতি সংবেদনশীল নকশা (ব্লু-প্রিন্ট) এবং সরবরাহকারীদের গোপন তথ্যাদি ফাঁস হয়েছে ডার্ক ওয়েবে। হ্যাকার গোষ্ঠী ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’-এর দাবি, এই বিপুল তথ্যভাণ্ডার তারা অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের সার্ভার হ্যাক করে সংগ্রহ করেছে।

কীভাবে ঘটল এই তথ্য চুরি? রিলায়েন্স গ্রুপের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ কুদানকুলাম প্রকল্পের ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের নির্মাণ ও নকশার দায়িত্বে রয়েছে। রিলায়েন্স জানিয়েছে, তাদের ডেটা সেন্টার সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান ‘ইয়োটা’ (Yotta)-র সার্ভারে থাকা তথ্যে আংশিক লঙ্ঘন (partial breach) ঘটেছে। ইয়োটা-র দাবি, গত ২৯ মে তারা একটি সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করে এবং তৎক্ষণাৎ তা প্রতিরোধ করা হয়। তবে জুন মাসের শেষদিকে হ্যাকারদের কাছ থেকে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি সামনে আসে।

কী কী তথ্য ফাঁস হয়েছে? ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’-এর ওয়েবসাইটে প্রায় ৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ফাইলের মধ্যে ১৯ হাজার ফাইলকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট ৩ ও ৪-এর ভেন্টিলেশন ও কুলিং সিস্টেমের সম্ভাব্য নকশা।

  • কন্ট্রোল রুমের সম্পূর্ণ ফ্লোর লেআউট।

  • সরবরাহকারীদের তালিকা এবং যন্ত্রপাতির বিস্তারিত বিবরণ।

  • নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিমা পলিসি এবং পরিদর্শনের গোপন নথি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নথিগুলো কোনো দুষ্কৃতকারীর হাতে পড়া মানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে উন্মুক্ত করে দেওয়া। যদিও মূল চুল্লির সিস্টেম (কোর সিস্টেম) রাশিয়ান প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় তা নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে, তবুও সহায়তা-ব্যবস্থাগুলোর মানচিত্র ফাঁস হওয়াকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি তৎপরতা ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ভারতের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’ (CERT-In) তদন্ত শুরু করেছে। পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থা ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’ (NPCIL) বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে পারমাণবিক শক্তি বিভাগ বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার আক্রমণের ক্ষেত্রে ভারতের বড় বড় কোম্পানিগুলো এখনো যথেষ্ট সুরক্ষিত নয়, যা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। টাটা গ্রুপের তথ্য ফাঁসের পর এবার রিলায়েন্সের এই ঘটনা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।