মৃত্যুর মুখে সোনম ওয়াংচুক! ১৮ দিনের অনশনে নড়েচড়ে বসল দিল্লি হাইকোর্ট, কেন্দ্রকে কড়া নোটিশ

দেশজুড়ে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আমূল সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনির্দিষ্টকালের অনশন আজ ১৮তম দিনে পদার্পণ করল। টানা অনশনের ফলে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, অনশনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর শরীরের ওজন সাড়ে ৮ কেজি কমেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে নোটিশ জারি করল দিল্লি হাইকোর্ট।

আদালতের হস্তক্ষেপ ও পরবর্তী পদক্ষেপ সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার ও তাঁকে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই আজ আদালত কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছে। আগামিকাল এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। আদালত এই পরিস্থিতিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে দেখছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সিজেপি-র আন্দোলন ও দাবিসমূহ যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিবাদ কর্মসূচি আজ ২৬তম দিনে পড়ল। মূলত, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে এই আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো:

  • পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার।

  • প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

  • স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বারবার আলোচনার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়টিকে এড়িয়ে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়াচ্ছে।

রাজনীতির ময়দানে উদ্বেগ সোনম ওয়াংচুকের এই দীর্ঘ অনশন ও সরকারের নীরবতা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর উদ্বেগ প্রকাশ করে সোনম ওয়াংচুক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে অবিলম্বে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত। সোনমের স্বাস্থ্য এখন অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

প্রসঙ্গত, ২৮ জুন থেকে শুরু হওয়া এই অনশন ও সিজেপি-র আন্দোলন এখন জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলিউডের একাধিক তারকা এবং বুদ্ধিজীবীরাও সোনম ওয়াংচুকের লড়াইয়ে সংহতি জানিয়েছেন। এখন সকলের নজর দিল্লি হাইকোর্টের আগামিকালের শুনানির দিকে—সরকার কী উত্তর দেয় এবং সোনমের অনশন ভাঙাতে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পথ প্রশস্ত হয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।