ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্রে বড়সড় সাইবার হামলা! ফাঁস হলো কুডনকুলাম প্ল্যান্টের গোপনীয় ব্লু-প্রিন্ট

র‍্যানসমওয়্যার গ্রুপ ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’-এর সাম্প্রতিক সাইবার হামলায় ভারতের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ডার্ক ওয়েবে পোস্ট করা একটি বিশাল ফাইল কালেকশনে ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্র কুডনকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ফাইলে প্ল্যান্টের বিভিন্ন ইউনিটের ব্লু-প্রিন্ট এবং সরঞ্জামের সরবরাহকারীদের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী, এই তথ্যগুলি অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ থেকে চুরি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রজেক্ট কুডনকুলাম ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনার পর রিলায়েন্স গ্রুপ স্বীকার করেছে যে, থার্ড-পার্টি ডেটা সেন্টার সার্ভিস প্রোভাইডার ‘ইয়োটা’ (Yotta)-র মাধ্যমে হোস্ট করা তাদের সার্ভারে একটি “আংশিক ডেটা ব্রিচ” বা তথ্যে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। তবে রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে ঠিক কী ধরণের তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।

নিউকিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের বিশেষজ্ঞ নিকোলাস রোথ এই ঘটনাকে পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত “ঝুঁকিপূর্ণ” বলে অভিহিত করেছেন। ফাঁস হওয়া ফাইলগুলো ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। এতে ব্লু-প্রিন্ট ছাড়াও মিটিংয়ের রেকর্ড, ইন্সপেকশন রিপোর্ট, ইকুইপমেন্ট রিভিউ এবং ইন্স্যুরেন্স পলিসির মতো সংবেদনশীল নথি রয়েছে। রিলায়েন্সের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি ‘রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ ২০১৮ সালে কুডনকুলামের ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের পরিকাঠামো তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিল। এই ইউনিটগুলি ২০২৭ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা, যা থেকে ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ অতীতে নাইকি ও টাটা গ্রুপের মতো বড় কোম্পানিকে নিশানা করে খবরের শিরোনামে এসেছিল। সাধারণত মুক্তিপণ না পাওয়া গেলে এই চক্রটি চুরি করা ডেটা প্রকাশ্যে ডার্ক ওয়েবে ছেড়ে দেয়। টাটা গ্রুপের ক্ষেত্রেও অ্যাপল ও টেসলার মতো ক্লায়েন্টদের গোপনীয় ডিজাইন ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল তারা।

বর্তমানে নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বিষয়টি নিয়ে রিলায়েন্সের সঙ্গে কথা বলছে এবং দেশের প্রধান সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি ‘সার্ট-ইন’ (CERT-In) ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। ইয়োটার দাবি, ২৯ মে তারা রিলায়েন্সের সার্ভারে প্রথম সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করে এবং তা আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু জুনের শেষে রিলায়েন্স তাদের জানায় যে, বাহ্যিক হ্যাকাররা ডেটা চুরির দাবি করছে। দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এখন গোটা বিষয়টি সরকারের উচ্চপদস্থ মহলে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।