দিঘায় রথযাত্রার আগে বড় প্রযুক্তিগত বদল! নিরাপত্তার ঘেরাটোপে এবার রথ সামলাবে স্টিয়ারিং ও ব্রেক

পুরীর জগন্নাথ ধামের রথযাত্রার সেই অমোঘ টান এবার যেন আছড়ে পড়ছে বাংলার সমুদ্র সৈকতে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে এ বছরের রথযাত্রাকে ঘিরে যে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব। পুরীর ঐতিহ্যের সঙ্গে দিঘার এই নতুন মন্দিরের সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে এবার প্রতিটি পদক্ষেপে রাখা হয়েছে বিশেষ নজর। রাজকীয় সাজ থেকে শুরু করে রথের প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ—সব মিলিয়ে এবারের রথযাত্রা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে চলেছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্নানযাত্রার পর বর্তমানে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা ‘অনসার’ পর্বে নিভৃতবাসে রয়েছেন। বুধবার নবযৌবন বেশে তাঁরা ভক্তদের দর্শন দেবেন। তার পরের দিনই অনুষ্ঠিত হবে রথযাত্রা। তবে এবারের রথযাত্রার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো বিগ্রহদের সাজসজ্জা। পুরীর প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসরণ করে এবার বিগ্রহদের পরানো হবে বিশেষ ‘রাজবেশ’। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, বিগ্রহদের মাথায় শোভা পাবে পুরী থেকে বিশেষভাবে আনা ‘রাজমুকুট’। রাজকীয় পোশাকে সজ্জিত হয়ে ‘পাহাণ্ডি বিজয়’ শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিগ্রহদের রথে আরোহন করানো হবে। সমুদ্রসৈকতে ভক্তরা এবার পুরীর রথযাত্রার এক অবিকল আবহ অনুভব করতে পারবেন।

রথযাত্রার প্রযুক্তিতেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। গতবারের রথযাত্রার অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এবার রথকে আরও সুনিপুণ ও নিরাপদ করার জন্য একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রথে নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে চারটি নতুন চাকা। সবচেয়ে বড় চমক হলো রথ পরিচালনার জন্য স্টিয়ারিং ও ব্রেকের বিশেষ ব্যবস্থা। রাধারমণ দাস ব্যাখ্যা করেন, পুরীর রথ মূলত সোজা পথে চলে, কিন্তু দিঘার ক্ষেত্রে রথকে বেশ কয়েকবার মোড় নিতে হয়। তাই গতবারের যান্ত্রিক অসুবিধার কথা মাথায় রেখে এবার নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

২০২৫ সালে অক্ষর তৃতীয়ার পবিত্র লগ্নে উদ্বোধনের পর থেকেই দিঘার এই জগন্নাথ মন্দির রাজ্যের এক প্রধান পর্যটন ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রভাবও এই রথযাত্রার আয়োজনে স্পষ্ট। রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। ভিড় সামলাতে এবং ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সমুদ্রের গর্জন আর রথের চাকার শব্দের মেলবন্ধনে এবার দিঘার রথযাত্রা এক ঐতিহাসিক রূপ ধারণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।