স্বাস্থ্যবিমায় বড় সুখবর! আয়ুষ্মান ভারতের বিমার পরিমাণ কি এবার দ্বিগুণ? জানুন বিস্তারিত

সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা দেশজুড়ে এক বড় সাফল্যের নাম। বর্তমানে এই যোজনার আওতায় বিমার পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকা। তবে ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা খরচ এবং বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই অঙ্ক যে পর্যাপ্ত নয়, তা স্বীকার করছেন অনেকেই। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবার কেন্দ্র সরকার আয়ুষ্মান ভারত যোজনার বিমার পরিমাণ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার চিন্তাভাবনা করছে বলে সূত্রের খবর।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক সুপারিশের ভিত্তিতেই এই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। সংসদীয় কমিটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জটিল অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার ক্ষেত্রে বর্তমান বিমার সীমা অনেক সময় চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে সক্ষম হয় না। ফলে, সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য নিজের পকেট থেকে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতেই বিমার পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন কমিটির সদস্যরা।
যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এই প্রস্তাবের ওপর চূড়ান্ত সিলমোহর বা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সরকারি সূত্রের মতে, প্রস্তাবটি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। কেন্দ্রের অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত পুরনো ৫ লক্ষ টাকার বিমার নিয়মই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, এখনই কোনো নিয়ম পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কারণে সাধারণ মানুষ আশায় বুক বাঁধছেন যে, দ্রুতই স্বাস্থ্য খাতে কেন্দ্রীয় সহায়তা বৃদ্ধি পাবে।
কীভাবে আবেদন করবেন এই কার্ডের জন্য?
এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য ব্যক্তিরা অনলাইনে অনায়াসেই আবেদন করতে পারেন। আবেদন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সহজ রাখা হয়েছে:
প্রথমেই আয়ুষ্মান ভারত যোজনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (pmjay.gov.in) ভিজিট করুন।
নিজেদের তথ্যাদি দিয়ে পোর্টালটিতে রেজিস্টার করুন।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র, যেমন—আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং আয় সংক্রান্ত শংসাপত্র নির্দিষ্ট জায়গায় আপলোড করুন।
আবেদন যাচাই করার পর যোগ্য প্রার্থীদের কার্ড প্রদান করা হবে।
এটি উল্লেখ্য যে, আয়ুষ্মান ভারত যোজনা কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, বরং সমগ্র ভারতজুড়ে কার্যকরী। দেশের যে কোনো তালিকাভুক্ত হাসপাতালে এই কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া সম্ভব। সরকার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এই বিশাল পরিবর্তন আনলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য সঞ্চয় শেষ হওয়ার ভয় অনেকটা কমবে। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ। সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টালে নিয়মিত নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে নতুন কোনো আপডেট আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা জানা যায়।