পূর্ব কলকাতা জলাভূমি বাঁচাতে মরিয়া হাইকোর্ট! ৫০০-র বেশি বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া নির্দেশ বিচারপতি অমৃতা সিনহার

পূর্ব কলকাতা জলাভূমি (East Kolkata Wetlands) রক্ষা ও বেআইনি নির্মাণ রুখতে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। জলাভূমি ভরাট করে গড়ে ওঠা ৫০০-র বেশি চিহ্নিত বেআইনি কাঠামোর বিরুদ্ধে ঠিক কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
হাইকোর্টের প্রশ্ন: আদালত সরাসরি জানতে চেয়েছে, চিহ্নিত এই ৫০০-রও বেশি বেআইনি নির্মাণের মধ্যে ঠিক কতগুলি ইতিমধ্যেই উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়েছে? সেই সঙ্গে, ভরাটের ফলে নষ্ট হওয়া জলাভূমির ঠিক কতখানি অংশ আবার তার আগের প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে।
কাদের রিপোর্ট দিতে হবে? বিচারপতি অমৃতা সিনহা এই নির্দেশ কার্যকরের রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। আগামী ১৪ অগাস্টের মধ্যে কলকাতা পৌর সংস্থা (KMC), পূর্ব জলাভূমি কর্তৃপক্ষ (EKWMA) এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদকে যৌথভাবে বা নিজ নিজ দপ্তরের তরফ থেকে এই রিপোর্ট পেশ করতে হবে।
কেন এই কড়াকড়ি? পরিবেশবিদদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি, যা শহরের প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে পরিচিত, সেখানে ক্রমাগত বেআইনি নির্মাণ ও ভরাট চালানো হচ্ছে। এই বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিবেশের ভারসাম্যের পাশাপাশি শহরের নিকাশি ব্যবস্থাকেও বিপন্ন করছে। হাইকোর্টের এই নির্দেশকে পরিবেশপ্রেমীরা স্বাগত জানিয়েছেন।
এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন ঠিক কী রিপোর্ট জমা দেয় এবং তারপরেই বা জলাভূমি রক্ষার বিষয়ে আদালত কী চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়।