রাজনীতিই শেষ কথা নয়! মঞ্চে ফিরলেন পার্থ ভৌমিক, অভিনয়ে মজে ব্যারাকপুরের সাংসদ

ব্যারাকপুরের ব্যস্ত সাংসদ পার্থ ভৌমিকের রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও যে এক সজীব শিল্পসত্তা রয়েছে, তা ফের প্রমাণিত হলো সম্প্রতি। অভিনয়ের প্রতি গভীর অনুরাগ তাঁকে রাজনীতির কড়া ব্যস্ততার মাঝেও বারবার টেনে আনে মঞ্চের আকর্ষণে। সম্প্রতি হায়দরাবাদের ‘উত্তরায়ণ’ আয়োজিত ‘পার্বণী ২০২৬’ নাট্যোৎসবে ‘দায়বদ্ধ’ নাটকে এক অনবদ্য চরিত্রে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। কাজের চাপে জর্জরিত জনজীবন থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে প্রবাশী বাঙালিদের মাঝে সাংসদের এই শিল্পরূপ নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে।
ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি অনামিকা ভট্টাচার্যের মুখোমুখি হয়ে পার্থ ভৌমিক জানালেন তাঁর এই বহুমুখী জীবনধারার নেপথ্য কথা। সাংসদের সাফ কথা, “যখন আমি মঞ্চে নাটক করতে আসি, তখন রাজনীতির কোনো স্থান থাকে না। আমাদের দর্শক কেবল আমার রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুগামী নন, বরং বিরোধী মতাদর্শের মানুষও নাটকের টানে দর্শকাসনে বসেন। আমি নিজেও অপোনেন্ট মানসিকতার বহু নাটক দেখেছি। অর্থাৎ, রাজনীতি এবং নাটক সম্পূর্ণ আলাদা দুটি পরিসর।”
নিজের ছোটবেলার নস্টালজিক স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি ফিরে গেলেন উত্তর ২৪ পরগনার সেই পুরনো দিনগুলোতে। সরস্বতী বা দুর্গাপুজোর সময় পাড়ায় মাচা বেঁধে নাটকের পাঠ—এই স্মৃতিই তাঁকে আজও তাড়িত করে। তিনি জানালেন, রাজনীতিতে আসার অনেক আগে থেকেই নাটকের প্রতি তাঁর অগাধ প্রেম। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের শিক্ষা তাঁকে শিখিয়েছে, “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।” আজ সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, সেই মানবিক শিক্ষাই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মূল ভিত্তি।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো অঞ্চলকে শিল্পায়নের কেন্দ্র করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা জটিল কারণ নিয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ পেলে তিনি অবশ্যই সব বলবেন।
রাজনীতি ও অভিনয়ের বাইরের জগৎ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সাংসদ জানান, তাঁর এক সুপ্ত বাসনা বাকি রয়ে গেছে। প্রচণ্ড ব্যস্ততার কারণে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলা মাঠে গিয়ে দেখা হয়ে ওঠেনি। ভবিষ্যতে কোনো এক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার স্বপ্নই এখন তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ইচ্ছা। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের খোলস ছেড়ে এভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে যাওয়া এবং মঞ্চের প্রতি এই অকৃত্রিম টান, পার্থ ভৌমিককে অন্যদের থেকে এক আলাদা উচ্চতায় দাঁড় করিয়েছে।