রাত বাড়লেই দুশ্চিন্তা? মার্কিন নেভির এই গোপন কৌশলে মাত্র ২ মিনিটে আসবে গভীর ঘুম

রাত গভীর হচ্ছে, অথচ চোখের পাতায় ঘুমের লেশমাত্র নেই। মাথার ভেতর কালকের কাজের চিন্তা, ফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখা আর দুশ্চিন্তার চোরাবালি—এই দৃশ্য এখন প্রায় প্রতিটি ঘরের চিত্র। ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল না হয়েও কীভাবে ঝটপট ঘুমিয়ে পড়া সম্ভব, সেই রহস্যের সমাধান দিয়েছিল মার্কিন নেভি। যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতিতে পাইলটরা যাতে যুদ্ধবিমান বা রণাঙ্গনের যেকোনো পরিবেশে দ্রুত ঘুমিয়ে নিতে পারেন, তার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল “মিলিটারি স্লিপ মেথড”। অবাক করা তথ্য হলো, টানা ছয় সপ্তাহ এই পদ্ধতি অনুশীলনের পর ৯৬ শতাংশ মানুষ মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে গভীর ঘুমে তলিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।

এই পদ্ধতিটি মূলত শরীরের পেশি শিথিলকরণ এবং মনের ক্লান্তি দূর করার এক বিজ্ঞানসম্মত সমন্বয়। পুরো প্রক্রিয়াটি ছয়টি সহজ ধাপে সম্পন্ন করতে হয়।

প্রথম ধাপ হলো, বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ ঢিলে করে দেওয়া। আপনার কপালের ভাঁজ, চোখের পাতা, গাল ও চোয়ালকে একদম আলগা করে দিন। জিভ যেন তালুতে না লেগে থাকে, সেই দিকে খেয়াল রাখুন। দ্বিতীয় ধাপে আপনার কাঁধের ওপর থেকে সব ভার নামিয়ে দিন। দুই কাঁধ বিছানার সাথে মিশিয়ে দিন। এরপর ডান হাত থেকে শুরু করে বাঁ হাতের আঙুলের ডগা পর্যন্ত সব পেশিকে শিথিল করুন। কল্পনা করুন আপনার হাত দুটো সীসার মতো ভারী হয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে।

তৃতীয় ধাপে আপনার বুক ও শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিন। একটি লম্বা শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে তা ছাড়ুন। প্রতিবার শ্বাস ছাড়ার সময় ভাবুন, বুকের ভেতরের সমস্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ নিঃশ্বাসের সাথেই শরীর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ ধাপে আপনার পায়ের ওপর মনোযোগ দিন। ডান পায়ের ঊরু থেকে শুরু করে হাঁটু, পায়ের পাতা—একইভাবে বাঁ পায়ের প্রতিটি পেশিকে একদম রিল্যাক্স করে দিন। মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের কোথাও যেন তিলমাত্র টান না থাকে। শরীর শারীরিকভাবে যখন সম্পূর্ণ শিথিল হয়ে যাবে, তখন ঘুমের অর্ধেক পথ আপনি পেরিয়ে গেছেন।

পঞ্চম ধাপটি হলো মানসিক শূন্যতা। শরীর রিল্যাক্স হলেও মন যদি অস্থির থাকে, তবে ঘুম আসে না। তাই মনকে একদম ফাঁকা করে দিন। মাত্র ১০ সেকেন্ডের জন্য কোনো চিন্তা নয়। যদি কোনো ভাবনা মাথায় আসে, তবে মনে মনে দৃঢ়ভাবে বলুন, “ভাববো না”। সবশেষে ষষ্ঠ ধাপ, একটি শান্তির ছবি কল্পনা করা। নিজেকে কল্পনা করুন কোনো শান্ত লেকের ওপর ক্যানোতে শুয়ে আছেন, যেখানে চারপাশে শুধু জল আর উপরে নীল আকাশ। অথবা একদম অন্ধকার ঘরে মখমলের দোলনায় দুলছেন। যদি দৃশ্য কল্পনা করতে অসুবিধা হয়, তবে একটানা মনে মনে বলতে থাকুন, “ভাববো না, ভাববো না”।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে শেষ হয়। মস্তিষ্ক যখন শরীর ও মনকে শান্ত অবস্থায় পায়, তখন সে ঘুমিয়ে পড়তে বাধ্য হয়। তবে মনে রাখবেন, এটি শিখতে মস্তিষ্ককে ২-৩ দিন সময় দিন। ৬ সপ্তাহ নিয়মিত প্র্যাকটিস করলে এটি অভ্যাসে পরিণত হবে। ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে ফোন, চা ও কফি বর্জন করা জরুরি। অনিদ্রার জন্য সব সময় ওষুধের প্রয়োজন নেই, মাঝে মাঝে কেবল মনের সেই ‘অফ বাটন’টি চাপতে জানতে হয়, আর মিলিটারি স্লিপ মেথড ঠিক সেটাই করে।