মাদ্রাসা নিয়োগে বড় ধাক্কা! সমস্ত আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টের, বড় স্বস্তিতে রাজ্য

রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের মামলায় বড় ধরনের আইনি জট কাটল। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত সমস্ত রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় আইনি নিষ্পত্তি হলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগ সংক্রান্ত মোট ৩৫০টিরও বেশি পিটিশন সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েছিল। এই বিপুল সংখ্যক আবেদনের মধ্যে থেকে বিস্তারিত শুনানির জন্য প্রাথমিকভাবে ১৩টি আবেদনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, যদি এই ১৩টি আবেদনের মধ্যে কোনো জোরালো মেরিট বা বাস্তবতা পাওয়া যায়, তবেই পরবর্তী ধাপে বাকি আবেদনকারীদের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।
সোমবার মামলার রায়দান পর্বে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায় যে, বাছাই করা ওই ১৩ জন আবেদনকারীর কেউই আদালতকে তাঁদের দাবির সপক্ষে সন্তুষ্ট করতে পারেননি। আদালতের কাছে তাঁদের উত্থাপিত যুক্তি বা তথ্যের কোনো মেরিট বা ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই বিচারপতি দত্তের বেঞ্চ ১৩টি আবেদন তো বটেই, বরং সামগ্রিকভাবে জমা পড়া ৩৫০টিরও বেশি পিটিশন খারিজ করার নির্দেশ দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের ফলে মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে ছিল। আবেদনকারীদের অভিযোগ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় আইনি জটিলতার অবসান ঘটল। আদালতের এই কড়া অবস্থানের ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে কোনো আইনি জট তৈরির আর সম্ভাবনা নেই।
আইনি মহলের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ। আবেদন খারিজ হওয়ার ফলে রাজ্য সরকার এবং মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন এখন দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। মামলাকারী শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের একাংশের কাছে এটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হলেও, নিয়োগ জট কাটিয়ে মাদ্রাসাগুলিতে পঠনপাঠন স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন শিক্ষা প্রশাসনের আধিকারিকরা। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই রায়ের ভিত্তিতে নিয়োগের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কীভাবে সম্পন্ন করে।