ঝাড়গ্রামে সিআইএসএফের গুলিতে রক্তাক্ত দুই বালি খাদান কর্মী! নিরাপত্তার গাফিলতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ঝাড়গ্রামের বিনপুর থানার বেতকুঁদরি এলাকায় রবিবার রাতে এক ভয়াবহ ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ, সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় আচমকাই এক জওয়ানের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চলে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন দুই বালি খাদান কর্মী। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাত ১০টা নাগাদ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভদীপ ঘোষ এবং অমিত মণ্ডল নামে দুই যুবক বিনপুর-১ ব্লকের একটি বালি খাদানে কাজ শেষ করে বীরভূমের দুবরাজপুরের দিকে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন। বেতকুঁদরি এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী সিআইএসএফ জওয়ানরা তাঁদের গতিরোধ করেন এবং পরিচয়পত্র দেখতে চান। অভিযোগ, সেই জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীনই এক জওয়ানের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে হঠাত্ গুলি চলে।

গুলিবিদ্ধ শুভদীপ ঘোষের পিঠের দিকের অংশ ও বাঁ পায়ে এবং অমিত মণ্ডলের বাঁ পায়ে গুলি লাগে। গুলির শব্দে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা দ্রুত কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

এই ঘটনায় সিআইএসএফ জওয়ানদের কার্যপদ্ধতি এবং নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খোদ জওয়ানদের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চলার ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম গাফিলতির প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি ‘দুর্ঘটনাবশত গুলি চলার ঘটনা’ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে বা কী কারণে বন্দুক থেকে গুলি বেরোল, এর পেছনে কোনো অসাবধানতা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেছে।

ঘটনাটি নিয়ে ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, সিআইএসএফের মতো প্রশিক্ষিত বাহিনীর সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সময় কেন এত বড় গাফিলতি হবে? ঘটনার পর এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার দিকে নজর রাখছে।