আপনার ফ্রিজে রাখা পনির কি আসল? আলিগড়ে নকল দুধ ও পনিরের বিশাল চক্র পর্দাফাঁস, সিল হলো ডেইরি

আলিগড়ের চান্দৌস এলাকায় বিষাক্ত ও নকল দুগ্ধজাত পণ্যের বিরুদ্ধে এক বড়সড় অভিযানে নামল খাদ্য সুরক্ষা ও ঔষধ প্রশাসন (এফএসডিএ)। গোপন খবরের ভিত্তিতে প্রশাসন সুদেশপুর গ্রামের বরকত আলী ডেইরি সহ একাধিক ডেইরিতে অতর্কিত অভিযান চালায়। এই অভিযানে ৪০০০ কেজি নকল পনির এবং ২০০০ লিটার সিন্থেটিক দুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই সমস্ত ভেজাল সামগ্রী ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন লখনউয়ের প্রধান খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা জ্ঞানপাল সিং এবং গৌতম বুদ্ধ নগরের সহকারী খাদ্য কমিশনার সর্বেশ মিশ্র। প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে বরকত আলী ডেইরি ছাড়াও চৌহান ডেইরি, সিরাজ ডেইরি এবং মাকসুর খান ডেইরিতেও চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ওই সমস্ত ডেইরি থেকে পরীক্ষার জন্য মোট ৯টি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকে এক যুবককে আটক করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ডেইরিগুলিকে অবিলম্বে সিল করে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের এই ত্বরিত পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে গত কয়েক দিনের বেশ কিছু মর্মান্তিক ঘটনা। জানা গেছে, সম্প্রতি চান্দৌস এলাকায় জিমে ব্যায়াম করতে আসা এক কিশোর ভেজাল পনির খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফুঁসছিলেন এবং ভেজাল কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছিলেন। খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, জনস্বাস্থ্যের সাথে এই ধরণের আপস কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

এফএসডিএ-এর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। ভোক্তাদের শুধুমাত্র ব্র্যান্ডেড এবং প্রত্যয়িত ডেইরি পণ্য কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, ল্যাবে পাঠানো নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পুরো এলাকা জুড়ে তদন্ত চলছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে আলিগড় প্রশাসন। ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন কর্মকর্তারা।