অপারেশন থিয়েটারে ভাইরাস আতঙ্ক! রাজস্থানের সরকারি হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য।

রাজস্থানের সরকারি হাসপাতালগুলিতে গর্ভবতী মহিলাদের মৃত্যু নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কোটা ও বিকানেরের মতো ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার ভিলওয়ারার মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালে গত ছয় দিনে পাঁচজন গর্ভবতী মহিলার মৃত্যু স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রসূতিদের সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের মেডিকেল আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার, যখন পোটলার বাসিন্দা সঙ্গীতা জিনগর সিজারিয়ান ডেলিভারির পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ভিলওয়ারার এই সরকারি হাসপাতালে ৫ই জুলাই থেকে ৯ই জুলাইয়ের মধ্যে গুর্জর, ফোরি দেবী, ইশা পান্ডে এবং দিব্যা নামের চারজন প্রসূতির মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে নয়জন গর্ভবতী মহিলার মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝিয়ে দেয়।
এই মৃত্যুর মিছিলের মধ্যেই অপারেশন থিয়েটারের (OT) রুটিন পরীক্ষার রিপোর্টে ভাইরাস পজিটিভ আসার খবর সামনে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও হাসপাতাল প্রশাসন সরাসরি সংক্রমণের সঙ্গে মৃত্যুর যোগসূত্র মানতে নারাজ, তবুও পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই রিপোর্ট সংক্রমণের সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করছে। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা।
তবে হাসপাতাল প্রশাসন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হাসপাতালের যুক্তি, অধিকাংশ রোগীকে অন্য হাসপাতাল থেকে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় এখানে রেফার করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, পালমোনারি এমবোলিজম, অ্যাসপিরেশন, তীব্র রক্তাল্পতা, এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো প্রসূতি জটিলতার কারণে এই মৃত্যুগুলো ঘটেছে, কোনো চিকিৎসকের গাফিলতি এতে ছিল না।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভিলওয়ারার মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি সিজারিয়ান সেকশন করা হচ্ছে। অথচ, হাসপাতালটিতে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য মাত্র পাঁচটি এবং জরুরি অবস্থার জন্য মাত্র তিনটি সার্জিক্যাল সেট রয়েছে। প্রতিটি সার্জিক্যাল সেট পুনরায় জীবাণুমুক্ত করতে কমপক্ষে তিন ঘণ্টা সময় লাগে, যা এত বিপুল পরিমাণ সার্জারির জন্য যথেষ্ট নয়। এই পরিকাঠামোগত অভাব এবং অপারেশন থিয়েটারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো বিষয়টি এখন স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে। এখন দেখার বিষয়, স্বাস্থ্য বিভাগ এই মৃত্যু ঠেকাতে এবং পরিকাঠামো উন্নত করতে কী ধরণের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।