ডিইউ-তে কি বন্ধ হবে চতুর্থ বর্ষের ক্লাস? সব কলেজে নয়, আসছে নয়া ‘ক্লাস্টার মডেল’!

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (DU) স্নাতক স্তরের চতুর্থ বর্ষের পাঠ্যক্রম নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দিল্লি ইউনিভার্সিটি প্রিন্সিপালস অ্যাসোসিয়েশন (DUPA) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী প্রস্তাব পাঠিয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, প্রতিটি কলেজে আলাদাভাবে চতুর্থ বর্ষের পাঠ্যক্রম পরিচালনা না করে ‘ক্লাস্টার মডেল’ বা গুচ্ছ পদ্ধতি অবলম্বন করা হোক। এই প্রস্তাবের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চতুর্থ বর্ষে পড়ুয়াদের ক্রমহ্রাসমান সংখ্যা।

বর্তমান শিক্ষাবর্ষের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ৩০ শতাংশ পড়ুয়া চতুর্থ বর্ষে ভর্তি হয়েছিল। আসন্ন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ক্ষেত্রেও পড়ুয়াদের অনাগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি কলেজে আলাদাভাবে সমস্ত প্রোগ্রাম চালানো একদিকে যেমন প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে কঠিন হয়ে পড়ছে, তেমনই তা আর্থিকভাবেও সাশ্রয়ী নয়। ডুপা (DUPA)-র মতে, কম পড়ুয়া সংখ্যা নিয়ে সব কলেজে এই বিভাগ সচল রাখা কার্যকর হচ্ছে না।

এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ডুপা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছে যে, সব কলেজে চতুর্থ বর্ষের ক্লাস না চালিয়ে নির্দিষ্ট কিছু বেছে নেওয়া কলেজে এই পাঠ্যক্রম চালুর দায়িত্ব দেওয়া হোক। এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওই কলেজগুলোর পরিকাঠামো, অভিজ্ঞ শিক্ষক বা ফ্যাকাল্টি, ল্যাবরেটরি ও পাঠ্যবইয়ের সহজলভ্যতা এবং পড়ুয়াদের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ‘ক্লাস্টার মডেল’ কার্যকর হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সম্পদ ও পরিকাঠামোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই মডেলটি বাস্তবায়িত হলে কম ছাত্রসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার মান বজায় রাখা সহজতর হবে। পাশাপাশি, বারবার প্রতিটি কলেজে ছোট ছোট ব্যাচ চালানোর প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপও অনেকটা লাঘব হবে। ডিইউ-এর ডিন অফ কলেজেস, ডিন একাডেমিক এবং রেজিস্ট্রারের কাছে এই মর্মে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রিন্সিপালদের এই সংগঠনটি মনে করছে, চতুর্থ বর্ষের উচ্চশিক্ষাকে দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে হলে এমন কেন্দ্রীভূত বা গুচ্ছ ব্যবস্থা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

এই নতুন মডেল কার্যকর হলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং পড়ুয়াদের জন্যও তা সুবিধাজনক হবে। একটি উন্নত শিক্ষামূলক পরিবেশ পাওয়ার পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কলেজে সেরা রিসোর্সগুলো পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই প্রস্তাবে কত দ্রুত শিলমোহর দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। শিক্ষামহল মনে করছে, চতুর্থ বর্ষের প্রাসঙ্গিকতা রক্ষা করতে এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ডিইউ-এর এমন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।