দিল্লি কি ট্রাফিক চালানের রাজধানী? ৫ বছরে কত কোটি টাকা আয় সরকারের?

দিল্লিতে ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি এখন নতুন উচ্চতায়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসেই দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ৪৮.৪২ লক্ষ চালান ইস্যু করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১ লক্ষ বেশি। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে প্রশাসন। এর মধ্যে ১৭.২১ লক্ষ চালান সরাসরি কাটা হয়েছে রেড লাইট এবং স্পিড ভায়োলেশন ডিটেকশন ক্যামেরার মাধ্যমে। তবে কেবল জরিমানা আদায় নয়, ট্রাফিক জ্যাম কমাতে দিল্লির ৩০টি প্রধান কনজেশন হটস্পটে সংস্কার এবং ৮টি সিগন্যাল-ফ্রি করিডোর তৈরি করা হয়েছে। বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের অভিযোগে ২,১৮৭টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
কিন্তু এই পরিসংখ্যান কেবল দিল্লির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৮.২৪ কোটিরও বেশি ই-চালান ইস্যু করা হয়েছে। এই বিশাল পরিমাণ জরিমানা বাবদ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো ১.২৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব পেয়েছে।
তালিকায় শীর্ষে কারা?
পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানে ই-চালানের সংখ্যার নিরিখে সবার উপরে রয়েছে তামিলনাড়ু, যেখানে প্রায় ৫.৫৭ কোটি চালান কাটা হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে উত্তরপ্রদেশ (৪.৪০ কোটি), এরপর যথাক্রমে কেরালা (১.৮৮ কোটি) ও হরিয়ানা (১.০৩ কোটি)। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে দিল্লি একাই ৯০.২২ লক্ষ চালান ইস্যু করে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে।
রাজস্ব আদায়ের চিত্রটি বেশ ভিন্ন। চালানের সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও উত্তরপ্রদেশ রাজস্ব আদায়ে সবার উপরে। গত পাঁচ বছরে উত্তরপ্রদেশ সরকার চালান থেকে ২৪,৯৫১ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছে। এরপরের স্থানগুলোতে রয়েছে হরিয়ানা (১৪,৬৫১ কোটি), বিহার (১৪,০০৩ কোটি) এবং রাজস্থান (১৩,৯৩৪ কোটি)। তামিলনাড়ু প্রায় ৭,৫৫৬ কোটি এবং দিল্লি ৫,৭১৪ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, তেলেঙ্গানা, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড ও আন্দামানের মতো কিছু রাজ্যের তথ্য এই হিসাবের বাইরে, কারণ সেখানে ই-চালান ব্যবস্থা তখনও পুরোপুরি চালু হয়নি।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের লক্ষ্য এখন প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং রাস্তাঘাট প্রকৌশলগতভাবে উন্নত করা। অযথা জ্যাম কমানো, সিগন্যাল-ফ্রি করিডোর তৈরি করা এবং ইউ-টার্নের পুনর্গঠন—এই উদ্যোগগুলো রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করবে বলে দাবি কর্মকর্তাদের। প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, জরিমানা বা রাজস্ব আদায় তাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য নয়; বরং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা কমলে রাস্তা হবে নিরাপদ, আর জ্যামমুক্ত শহরের স্বপ্ন পূরণ হবে আরও সহজ।