৫০০০ নয়, ৫০০ অ্যাপ্লিকেশনের পরেও জুটল না ইন্টারভিউ কল, চাকরিপ্রার্থীর হাহাকার ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়!

কলেজ জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে প্রথম চাকরির লড়াই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছেই এক বিশাল মাইলফলক। কঠোর পরিশ্রমের পর কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি হাতে পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেন নতুন গ্র্যাজুয়েটরা। কিন্তু বাস্তবের চিত্রটি অনেক ক্ষেত্রেই স্বপ্নের বিপরীত। হাতে চকচকে বিটেক ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও মাসের পর মাস ইন্টারভিউয়ের একটি কল না আসা তরুণ প্রজন্মের কাছে চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর এক নতুন ইঞ্জিনিয়ার রেডডিট (Reddit)-এ নিজের এই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন, যা আজকের কর্মসংস্থানের বাস্তব চিত্রকে আয়নার মতো পরিষ্কার করে দিয়েছে।

ওই শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তিনি ২০২৬ ব্যাচের বিটেক গ্র্যাজুয়েট। পড়াশোনা শেষ করার পর থেকেই তিনি নিরলসভাবে চাকরির সন্ধান করছেন। গত এক মাসে তিনি হাল ছাড়েননি। লিংকডইন (LinkedIn), বিভিন্ন কোম্পানির অফিসিয়াল পোর্টাল এবং একাধিক জব সাইট মিলিয়ে তিনি অন্তত ৫০০টি সংস্থায় চাকরির আবেদন করেছেন। প্রত্যাশা ছিল, অন্তত কিছু সংস্থা থেকে ইন্টারভিউয়ের ডাক আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এক মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর ঝুলিতে একটিও ইন্টারভিউ কল জোটেনি।

সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, যে কোম্পানিগুলোতে তিনি আবেদন করেছেন, তার অধিকাংশ থেকেই কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অ্যাপ্লিকেশন পাঠানোর পর কেন তা বাতিল করা হলো বা কেন ইন্টারভিউয়ের সুযোগ দেওয়া হলো না—এই স্বচ্ছতার অভাব একজন নতুন কর্মপ্রার্থীর আত্মবিশ্বাসকে ধূলিসাৎ করার জন্য যথেষ্ট। ওই তরুণ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শুরুতে তিনি বিশাল বেতনের আশায় দৌড়চ্ছেন না। তাঁর মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি কাজের ক্ষেত্র, যেখানে তিনি হাতে-কলমে শিখতে পারবেন এবং পেশাদার অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত যেকোনো রোলেই তিনি কাজ করতে প্রস্তুত।

রেডডিটে তাঁর এই পোস্ট নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে। বহু মানুষ, যারা একই পরিস্থিতির সম্মুখীন, তারা নিজেদের মতামত ও দুঃখের কথা শেয়ার করেছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, আজকের দিনে ফ্রেশারদের জন্য চাকরি পাওয়া যেন এক অসাধ্য সাধন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ইন্টারভিউয়ের ডাক এলেও শেষ পর্যায়ে গিয়ে বারবার রিজেকশন পাওয়াটা আরও বেশি কষ্টদায়ক। অন্য একজন লিখেছেন, বড় কোম্পানিগুলো রিজেকশনের কারণ না জানিয়ে নীরবতা পালন করে, যা চাকরিপ্রার্থীর মনের জোরকে ভেঙে দেয়। পড়াশোনা শেষে স্বপ্ন পূরণের পথে এই বিশাল বাধা আজকের কর্মসংস্থানের বাজারের এক কঠিন সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে।