মাত্র ৫ দিনেই গায়েব অমরনাথ! বরফলিঙ্গ গলে যাওয়ায় লাখো ভক্তের চোখে জল, নেপথ্যে ভয়ংকর কারণ?

চলতি বছর ৫৭ দিন ধরে চলার কথা ছিল পবিত্র অমরনাথ যাত্রা। কিন্তু যাত্রা শুরুর মাত্র ৫ দিনের মাথাতেই অমরনাথের বরফের শিবলিঙ্গ গলে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী দর্শন পাওয়ার আশায় রওনা হলেও, শিবলিঙ্গ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অমরনাথের এই আচমকা রূপান্তরের নেপথ্যে উঠে আসছে ভয়াবহ তথ্য।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অমরনাথের শিবলিঙ্গ ‘বরফানি বাবা’ নামে পরিচিত। চাঁদের কলার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর আকারের পরিবর্তন হয়। সাধারণত শিবলিঙ্গের উচ্চতা ৭ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে, অনুকূল আবহাওয়ায় তা ১৫ ফুট পর্যন্ত পৌঁছায়। কিন্তু এবার শুরু থেকেই শিবলিঙ্গের উচ্চতা ছিল অস্বাভাবিক রকমের কম, মাত্র ৭-৮ ফুট। শ্রাবণী পূর্ণিমার আগেই এভাবে শিবলিঙ্গ গলে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীরা।

গুহার ভেতরের তাপমাত্রা ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলেই শিবলিঙ্গ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হয়। কিন্তু বর্তমানে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত ভিড়। এবারের যাত্রার দ্বিতীয় দিনেই রেকর্ড প্রায় ২০ হাজার তীর্থযাত্রী দর্শন করেছেন। মানুষের শরীরের তাপ এবং শ্বাস-প্রশ্বাস গুহার ভেতরের পরিবেশকে উষ্ণ করে তুলেছে। এর পাশাপাশি গুহার বাইরে জেনারেটারের ব্যবহার, দূষণ এবং তীর্থযাত্রীদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক ও বর্জ্য তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ইন্ধন জোগাচ্ছে।

আগে তীর্থযাত্রীদের দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যেতে হতো, যার ফলে ভিড় নিয়ন্ত্রণে থাকত। কিন্তু বর্তমানে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করার জন্য হেলিকপ্টার সার্ভিস, রোপওয়ে এবং সড়ক যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে গুহার খুব কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ২০০৪, ২০০৬ ও ২০২০ সালের মতো বছরগুলোতেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে শিবলিঙ্গ দ্রুত গলে গিয়েছিল। বর্তমানের এই যান্ত্রিকতা ও অতিরিক্ত ভিড় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। অবিলম্বে অমরনাথের পরিবেশ রক্ষা না করলে ভবিষ্যতে এই পবিত্র তীর্থস্থান আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পরিবেশবিজ্ঞানীরা।