ফের জেলে রাজপাল যাদব! চেক বাউন্স মামলায় ৩ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ হাইকোর্টের

ফের আইনি বেড়াজালে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদব। চেক বাউন্স সংক্রান্ত সাতটি মামলায় অভিনেতাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিল দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মা এই রায় ঘোষণা করার সময় রাজপাল যাদবের আচরণকে ‘সন্দেহজনক’ বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁকে অবিলম্বে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশ কী? আদালত শুধুমাত্র কারাদণ্ডই নয়, বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানাও করেছে। সাতটি মামলার প্রতিটিতে অভিযোগকারী সংস্থাকে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা এবং ১ কোটি ৪ লক্ষ টাকা করে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজ্য সরকারকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানাও দিতে হবে। এই দায়ভার থেকে বাদ পড়েননি অভিনেতার স্ত্রী রাধা যাদবও। তাঁকেও প্রতিটি মামলায় ৫ লক্ষ ৫১ হাজার ৩৮০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অবশ্য, অভিনেতা এর আগে যে ২.২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন, তা চূড়ান্ত হিসাব থেকে বাদ যাবে বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত: ২০১০ সালে নিজের পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’-র জন্য ‘মেসার্স মুরলী প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি সংস্থা থেকে ৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিলেন রাজপাল। কিন্তু ছবিটি বক্সঅফিসে সফল না হওয়ায় ধার পরিশোধে সমস্যা দেখা দেয়। সেই ৫ কোটি টাকা সুদে-আসলে প্রায় ৯ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের জেরেই শুক্রবার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল আদালত।

আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস: উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে তিহার জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন অভিনেতা। এর আগেও এই মামলায় তাঁকে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আত্মসমর্পণের আগে একটি সাক্ষাৎকারে রাজপাল জানিয়েছিলেন, তাঁর কাছে টাকা নেই এবং টাকা ফেরতের কোনো উপায়ও তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। এবার আদালতের কড়া নির্দেশে ফের অভিনেতাকে তিহারের গারদেই ফিরতে হচ্ছে।

বলিউডের অন্যতম প্রতিভাধর এই কমেডিয়ানের এই পরিস্থিতির খবরে উদ্বিগ্ন তাঁর অগণিত ভক্তরা। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে অভিনেতা উচ্চতর আদালতে আবেদন করবেন কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।