প্রাচীন ঐতিহ্যের গর্ব নাকি আক্রমণকারীদের গুণগান? মিসাইলের নামে অদ্ভুত ‘দ্বিচারিতা’য় ধরা পড়ল পাকিস্তান!

ভারতের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। একদিকে তারা নিজেদের প্রাচীন ‘সিন্ধু সভ্যতা’ বা ‘ইন্ডিজ়’ ঐতিহ্যের প্রকৃত উত্তরাধিকারী হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে তাদের সামরিক বাহিনীর অন্দরে লুকিয়ে রয়েছে এক চরম স্ববিরোধিতা। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ আক্ষরিক অর্থেই ‘দ্বিচারিতা’। কারণ, একদিকে তারা প্রাচীন ঐতিহ্যের গুণগান গাইছে, অন্যদিকে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ও বিধ্বংসী মিসাইলগুলোর নামকরণ করা হয়েছে এমন সব আক্রমণকারীদের নামে, যাঁদের হাতে এই উপমহাদেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী লুণ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্বের যেকোনো দেশ তাদের সামরিক শক্তির প্রতীক হিসেবে নিজস্ব গৌরবময় ইতিহাস বা পৌরাণিক ঐতিহ্যের নাম ব্যবহার করে। যেমন ভারতের ‘অগ্নি’, ‘পৃথ্বী’ বা ‘তেজস’—যা ভারতের প্রাচীন শক্তি ও সংস্কৃতির পরিচায়ক। এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় পাকিস্তানে। তাদের মিসাইল তালিকার দিকে তাকালে ইতিহাসের ‘লুঠতরাজ’-এর এক দীর্ঘ তালিকা বেরিয়ে আসে। তাদের ‘হটফ-৩’ মিসাইলের নাম রাখা হয়েছে মাহমুদ গজনভির নামে, যিনি সোমনাথ মন্দির লুণ্ঠন করে ইতিহাসের পাতায় কুখ্যাত হয়ে আছেন। ‘হটফ-৫’ মিসাইলের নাম দেওয়া হয়েছে মহম্মদ ঘুরী, ‘হটফ-৭’ রাখা হয়েছে বাবর এবং ‘হটফ-২’ রাখা হয়েছে আহমদ শাহ আবদালির নামে। এছাড়া রয়েছে তৈমুর লঙের মতো আক্রমণকারীর নামে নামকরণ করা মিসাইল।
শুধু মিসাইল নয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের নাম ‘জুলফিকার’, যা ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। পাকিস্তানের অসামরিক নেতৃত্ব এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই নিয়ে এক ধরণের দ্বন্দ্বও স্পষ্ট। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মাঝে কিছুটা নমনীয় সুরেই বলেছিলেন যে, সম্রাট অশোক, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য বা কণিষ্ক তাঁদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বাস্তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাদের এই সেক্যুলার বা ঐতিহাসিক অতীত থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। বর্তমান সেনাপ্রধান অসীম মুনির, যিনি নিজে একজন ‘হাফিজ-এ-কুরআন’, বাহিনীর অন্দরে ইসলামীকরণের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ঐতিহ্যের চেয়ে ‘আদর্শিক আধিপত্য’ এবং ভারত বা হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষ জিইয়ে রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা এমন সব নাম বেছে নিয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে ভারতীয়দের ওপর হওয়া অত্যাচারের স্মারক। পাকিস্তান যতবারই নিজেকে সিন্ধু সভ্যতার ধারক হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছে, ততই তাদের মিসাইলগুলোর নাম সেই দাবিকে উপহাস করছে। পাকিস্তানের এই দ্বিচারিতা যে তাদের অন্দরের গভীর সংকটকেই সামনে এনে দিয়েছে, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার বিষয়। নিজেদের ইতিহাসের বুলডোজার চালানো পাকিস্তান আসলে তাদের অস্ত্রের নামেই বারবার নিজেদের অসংলগ্নতা প্রকাশ করে ফেলছে।