নামের বানান বদলালেই কি ভাগ্য ফেরে? অজয় দেবগণ থেকে তৃপ্তি ডিমরি—বলিউড কেন এই পথে হাঁটে?

বলিউড জগতে নামই হলো পরিচয়, আর নামই হলো ব্র্যান্ড। কিন্তু রুপোলি পর্দায় নিজের জায়গা পাকা করতে বা ভাগ্য ফেরাতে অধিকাংশ বলিউড তারকাই ক্যারিয়ারের মাঝে এসে বদলে ফেলেন নিজের নামের বানান। অজয় দেবগন থেকে তৃপ্তি দিমরি—কারো ক্ষেত্রে বানান বদল, আবার কারো ক্ষেত্রে পদবি পরিবর্তন। কিন্তু মাত্র একটি অক্ষরের হেরফেরে কি আদৌ ভাগ্য বদলে যায়? চলুন জেনে নেওয়া যাক এই নামকরণের নেপথ্যের আসল রহস্য।

কেন নাম বদলান তারকারা?

প্রথমত, নিউমেরোলজি বা সংখ্যাতত্ত্ব। বলিউডের সিংহভাগ তারকার পেছনে কাজ করেন একজন পার্সোনাল নিউমেরোলজিস্ট। ইংরেজি বর্ণমালার প্রতিটি অক্ষরের নির্দিষ্ট মান থাকে। নামের সব অক্ষর যোগ করে যদি সেই সংখ্যাটি ১, ৩, ৫ বা ৬-এর মতো ‘লাকি’ বা সৌভাগ্যসূচক সংখ্যার সঙ্গে না মেলে, তবেই তারা নামের বানান পরিবর্তন করেন। অজয় দেবগনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। নব্বইয়ের দশকের ‘ফুল অউর কাঁটে’র অজয় দেবগন ২০০০ সালের পর হয়ে ওঠেন ‘অজয় দেবগণ’। জ্যোতিষীদের মতে, ‘গণ’ যুক্ত হওয়ার পর থেকেই তার ক্যারিয়ারে সাফল্যের জোয়ার আসে।

দ্বিতীয়ত, ব্র্যান্ডিং। তৃপ্তি দিমরি থেকে ‘তৃপ্তি ডিমরি’ হওয়ার নেপথ্যে ছিল উচ্চারণগত সুবিধা। ‘ডিমরি’ নামটি অনেক বেশি জোরালো এবং সহজে মনে রাখা যায়। দর্শকদের কাছে সহজলভ্য এবং মনে রাখার মতো নাম ব্র্যান্ড হিসেবে বেশি সফল। এছাড়া অক্ষয় কুমারের মতো অনেকে নিউমেরোলজিস্টের পরামর্শে রাজীব ভাটিয়া থেকে পদবি বদল করে হয়েছেন অক্ষয় কুমার। আবার ঐশ্বর্যা রাই কিংবা কারিনা কাপুরেরা বিয়ের পর নিজের ব্র্যান্ডিংকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পদবি যোগ করেছেন।

তৃতীয়ত, একটি নতুন শুরুর মানসিকতা। অনেক সময় ক্যারিয়ারে টানা কয়েকটি ছবি ফ্লপ করলে তারকারা নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি নতুন ইনিংস শুরু করার প্রেরণা পান। এটি তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জোগায় যে, তারা নতুন করে সবকিছু শুরু করছেন।

তবে নাম বদলালেই কি সাফল্য নিশ্চিত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র বানান বদলিয়ে ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। মুম্বইয়ের প্রখ্যাত নিউমেরোলজিস্টদের মতে, নাম বদল করলে আত্মবিশ্বাস ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সেই আত্মবিশ্বাস থেকে অভিনেতা ২০ শতাংশ বেশি পরিশ্রম করেন, যার ফলস্বরূপ সাফল্য আসে। সুতরাং, অজয় দেবগণের সাফল্য শুধু নামের বানান পরিবর্তনের জন্য নয়, তার অভিনয় দক্ষতা এবং সঠিক চিত্রনাট্য নির্বাচনের কারণেই। ঠিক তেমনই তৃপ্তি ডিমরিও কেবল নামের জাদুতে ‘এনিম্যাল’-এর মতো সিনেমা পাননি। নামের বানান বদলানো কোনো ম্যাজিকের কাঠি নয়, এটি মূলত একটি বিশ্বাস, ব্র্যান্ডিং স্ট্র্যাটেজি এবং নতুন শুরুর সিগন্যাল।