কেতন হত্যাকাণ্ড: পুরুষদের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ! সংসদে পেশ হলো জাতীয় কমিশন বিল

সাম্প্রতিককালে পুরুষ নির্যাতনের একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উত্তাল দেশ। বিশেষ করে লোহগড় দুর্গের মতো মর্মান্তিক কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড জনমানসে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই পুরুষদের অধিকার সুরক্ষা ও নির্যাতনের মোকাবিলায় সংসদে নতুন বিল পেশের প্রস্তাব উঠে এল।
সংসদে কী প্রস্তাব দিলেন সাংসদ? দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মহিলাদের জন্য জাতীয় কমিশনের আদলে এবার পুরুষদের জন্য একটি ‘জাতীয় কমিশন’ গঠনের দাবি জোরালো হয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ অশোক কুমার মিত্তল সংসদে পুরুষদের জন্য এই জাতীয় কমিশন গঠনের বিল আনার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর যুক্তি, অপরাধের শিকার কেবল মহিলারা হন না, পুরুষরাও বিভিন্ন স্তরে নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু তাঁদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সরকারি মঞ্চ না থাকায় তাঁরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কেন এই কমিশনের প্রয়োজন? সাংসদের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই বিল পাশ হলে ‘মিনিস্ট্রি অফ ল’-এর অধীনে একটি কমিশন গঠিত হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হবে:
নির্যাতনের শিকার পুরুষদের আইনি সহায়তা ও সুরক্ষা প্রদান।
পুরুষদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় স্তরে কাজের ব্যবস্থা করা।
ক্রমবর্ধমান পুরুষদের আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনা এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা।
কেতন হত্যাকাণ্ড: এক নৃশংস ঘটনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, বছর ২০-এর সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতনের পরিকল্পনাতেই লোহগড় দুর্গ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয় ২৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে। হবু বরের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও তোতলামি পছন্দ না হওয়ায় এবং নিজের প্রেমিকের সাথে বিয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এই নৃশংস পথ বেছে নেন ওই তরুণী। তবে খুনের পর জানা যায়, চেতনের সাথেও অন্য একাধিক মেয়ের সম্পর্ক রয়েছে, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এহেন ঘটনার পর দেশজুড়ে পুরুষ সুরক্ষার দাবি নতুন করে মাথা চাড়া দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংসদ এই বিলকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং আদৌ তা আইনে পরিণত হয় কি না।