‘সেবাশ্রয়’ দুর্নীতির পর্দাফাঁস? মাটি খুঁড়ে উদ্ধার ওষুধের তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়াল থানায়!

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে এবার ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। প্রকল্পের নাম জড়িয়ে এবার সরাসরি অভিযোগ দায়ের হল পারুলিয়া কোস্টাল থানায়। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির অভিযোগ, এই প্রকল্পে ওষুধের ক্রয়, সংরক্ষণ এবং নিষ্পত্তি নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল হয়ে উঠেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় দায়ের করা এই অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁর সহযোগী সুমিত রায়, তৎকালীন জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকার ওষুধের হিসাব নেই এবং মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ ওষুধ পুঁতে রাখার বিষয়টি নিছক কোনো সাধারণ ঘটনা নয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ জুন। অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবারের সরিষা ও হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেই সময় পুলিশ নমুনা সংগ্রহ করলেও কোনো এফআইআর বা নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়নি। এই নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধেই এবার সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। তাঁর বক্তব্য, যদি এই ওষুধগুলি সরকারি প্রকল্পের হয়ে থাকে, তবে কেন সেগুলিকে নিয়ম মেনে ধ্বংস না করে মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হলো? এটি কি কোনো বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির অংশ?

অভিযোগকারীর দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে। কেন এত বিপুল পরিমাণ ওষুধ মাটির নিচে লুকানো হয়েছিল, সেই রহস্যের কিনারা করা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয়দের একাংশের মতে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যখন এই ওষুধ উদ্ধারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, তখনই বিতর্কের ঝড় ওঠে। সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে এবার আইনি পথে হাঁটল বিজেপি।

অভিযোগের তালিকায় থাকা তৎকালীন জেলাশাসক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর মতে, কোটি কোটি টাকার সরকারি ওষুধ এভাবে অপচয় বা তছরুপ করা হলে তার দায়ভার প্রশাসনিক প্রধানদের নিতেই হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অভিযোগটি আগামী দিনে শাসকদলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যে এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে জোর জল্পনা চলছে। বিরোধীদের দাবি, প্রশাসন যদি এই ঘটনায় দ্রুত এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু না করে, তবে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। এখন দেখার বিষয়, আইনি এই চাপ সামলে শাসকদল কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং পুলিশি তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।