বিষধর সাপ চেনেন না? মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরতে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি!

বর্ষা ঋতু মানেই প্রকৃতির সজীবতা, কিন্তু এই সময়েই বেড়ে যায় সাপের উপদ্রব। গ্রাম থেকে শহর—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাপের কামড়ের ঘটনা এখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবে এবং সাপের ধরন না চেনার কারণে চিকিৎসার দেরি হয়, যা প্রাণহানির মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পশ্চিমবঙ্গে মূলত চারটি বিষধর সাপ রয়েছে—গোখরো, কেউটে, চন্দ্রবোড়া এবং কালাচ বা কালচিতি। এর মধ্যে গোখরো বা কেউটের কামড় সহজেই শনাক্ত করা যায়, কারণ কামড়ের জায়গায় প্রচণ্ড জ্বালা ও ফোলাভাব দেখা দেয়। কিন্তু সবচেয়ে আতঙ্কের কারণ হলো ‘কালাচ’ বা ‘কালচিতি’।
কালাচের কামড় এতোই সূক্ষ্ম যে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায়শই বুঝতে পারেন না যে তাকে সাপে কামড়েছে। এই সাপের কামড়ে কোনো ব্যথা হয় না, জায়গাটা ফোলে না, এমনকি কোনো ক্ষতচিহ্নও স্পষ্ট থাকে না। অথচ, এর বিষ দ্রুত স্নায়ুতন্ত্রকে অকেজো করে দেয়। ধীরে ধীরে পেটে ব্যথা, গলার অস্বস্তি কিংবা জ্বরের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। সময়মতো অ্যান্টি-ভেনম চিকিৎসা শুরু না হলে মৃত্যু অনিবার্য।
ভয়ের আরেকটি বড় কারণ হলো বিষধর ‘কালাচ’ এবং নির্বিষ ‘ঘরচিতি’ সাপের মধ্যে পার্থক্য করতে না পারা। অনেকেই ঘরচিতি সাপের কামড়েও অতিরিক্ত আতঙ্কে অসুস্থ বা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এই বিভ্রান্তি দূর করতে সাপ চেনা অত্যন্ত জরুরি।
কালাচ ও ঘরচিতি চেনার উপায়:
কালাচ: এদের গায়ের রঙ কালো বা নীলাভ-কালো। মাথা আঙুলের ডগার মতো গোল হয়। ঘাড়ের নিচ থেকে লেজ পর্যন্ত সাদা ব্যান্ড জোড়ায় জোড়ায় থাকে। এদের জিভ টকটকে লাল। এটি অত্যন্ত বিষধর এবং সাধারণত রাতে সক্রিয় থাকে।
ঘরচিতি: এদের গায়ের রঙ হালকা বাদামি বা ইটের মতো। মাথা চ্যাপ্টা। এদের পিঠের সাদা ব্যান্ড লেজের দিকে থাকে না। জিভ হালকা গোলাপি রঙের। এই সাপ সম্পূর্ণ নির্বিষ। এরা দেওয়াল বেয়ে উঠতে পারে এবং আলনা, দেওয়াল ঘড়ি বা আলমারির পেছনে লুকিয়ে থাকে।
সচেতনতাই পারে এই বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করতে। বাড়িতে সাপের উপদ্রব কমাতে ঘর পরিষ্কার রাখা এবং রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো অবস্থাতেই বিষধর ও নির্বিষ সাপের মধ্যে বিভ্রান্ত হবেন না। সাপে কামড় দিলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর ভরসা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অ্যান্টি-ভেনম চিকিৎসা গ্রহণ করাই একমাত্র বাঁচার উপায়।